ঈশ্বরদীতে কলা বাগান করে সফল হলেও দুঃচিন্তায় কৃষক জবানের দিন কাটছে

0
101
ঈশ্বরদীতে কলা বাগান করে সফল হলেও দুঃচিন্তায় কৃষক জবানের দিন কাটছে
কৃষক জবান

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রুপপুর গ্রামের মরহুম ইয়াজ উদ্দিন মালিথার ছেলে জবান কৃষি খামারের স্বত্তাধিকারী মোঃ রেজাউল করিম জবান ১০ বিঘা জমিতে কলা বাগান করে সফল হলেও দুঃচিন্তায় তার দিন কাটছে। হাডিঞ্জব্রীজ সংলগ্ন এবং গাইড ব্যাংকের পার্শ্বে পতিত জমি খাজনা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, সাহস ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে কলার বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগানের কলা গাছ গুলো যেমনি রুষ্ট-পুষ্ট তেমনি তরতাজা ও সুন্দর হয়েছে।

জবান বলেন, রুপপুর আনবিক প্রকল্প মাঠে ৭০ বিঘা জমিতে আমার পেঁপে বাগান ছিল। সেখান থেকে উঠে এসে হাডিঞ্জব্রীজ সংলগ্ন গাইড ব্যাংকের পার্শ্বে পতিত জমি খাজনা নিয়ে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কলা বাগান গড়ে তুলেছি। আমাদের দেশের অনেক চাষিই কলা বাগান করে থাকেন। তবে এভাবে কাশবন, জঙ্গল, আগাছা, পাথর পরিষ্কার করে পতিত পড়ে থাকা জমিতে কেউ কলা বাগান গড়ে তুলেননি। কলা গাছ লাগানোর পর পরিচর্যা ও জৈব সার দেওয়াতে গাছ গুলো যেমনি রুষ্ট-পুষ্ট তেমনি সুন্দর হয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই গাছে কলার কাদ পড়বে। এ অবস্থায় লোক মুখে শুনতে পারছি আমার এই কলা বাগানের মাঝ দিয়ে আনবিক প্রকল্পের রেললাইন চলে যাবে। কলার বাগান দিয়ে রেললাইন যাওয়ার কথা শুনে দুঃচিন্তায় পড়ে গেছি। এখন পর্যন্ত আমাকে কোন কিছু জানানো হয়নি। জানিনা এবার ভাগ্যে কি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী, তিন কন্যা, এক ছেলেসহ ৮ জন খাবার মানুষ রয়েছে। কৃষির উপার্যন থেকেই তাদের ভরণ পোষণ, পোষাক, লেখাপড়া, ঔষধের ব্যবস্থা করে থাকি। আমার দুই মেয়ে পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত, ছেলেটা এইচ এসসি পাশ করেছে, ছোট মেয়ে রুপপুর বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। ভেবেছিলাম এই কলা বাগানের উপার্যন দিয়ে ভালো ভাবে ওদের পড়াশুনার খরচ চালাবো। কলাবাগানটা আনবিকের রেললাইনে চলে গেলে হয়তো ওদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে নিত্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ও সম্প্রসারণে আধুনিক পদ্ধতিতে জৈব সার দিয়ে চাষাবাদ করে যাচ্ছেন কলা চাষি জবান। তিনি কঠোর পরিশ্রম করে কাশবন, জঙ্গল, আগাছা, পাথর পরিষ্কার করে পতিত জমি খাজনা নিয়ে সেখানে সবুজের সমারোহ গড়ে তুলেছেন। জবানের ছেলে-মেয়েরা কৃষির উপার্জিত অর্থ দিয়েই পড়াশুনা করে থাকেন। রুপপুর আনবিক প্রকল্প মাঠ থেকে উঠে এসে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ১০ বিঘা জমিতে কলা বাগান করে সফল হয়েছেন। বাগানের গাছগুলো রুষ্ট-পুষ্ট আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই গাছে কলা ধরবে তিনি তা বিক্রি করে লাভবানও হবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা পড়ে থাকবেনা, সকল জায়গাতে ফলমূল ও গাছপালা লাগাতে হবে। কলা বাগানের মাঝ দিয়ে আনবিক প্রকল্পের রেললাইন চলে গেলে জবানের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, পরিশ্রম মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায় তার বাস্তব প্রমাণ হলো জবান কৃষি খামারের স্বত্তাধিকারি সফল কৃষক রেজাউল করিম জবান। কঠোর পরিশ্রম করে জবান একজন মডেল খামারি হিসেবে ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে পরিচিতি লাভ করেছেন। এবার কৃষক জবান তার খামারের ১০ বিঘা জমিতে কলা গাছ লাগিয়েছেন। বাগানের কলা গাছ গুলো হয়েছে রুষ্ট-পুষ্ট আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই গাছে কলার কাদ পড়বে। পরিশ্রম, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, সাহস ও মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে জবানের মতো সকলেই এক সময় ক্রমান্বয়ে উপরে উঠতে থাকবে। জবান জৈব সার দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জবান এভাবে তার খামারের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে আগামিতে আরও ভালো করবে বলে আশা পোষণ করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন............

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here