ঈশ্বরদীতে জানে মেরে ফেলার হুমকি : স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলন

0
194
ঈশ্বরদীতে জানে মেরে ফেলার হুমকি : স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলন
ঈশ্বরদীতে জানে মেরে ফেলার হুমকিতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন নাজমা খাতুন বেলির পিতা ইউনুস আলী। এসময় পাশে বসেছিলেন নাজমা খাতুন বেলি। ছবি- প্রতিনিধি।

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল শহিদ পাড়ার আজিজুর রহমান টুকুর ছেলে রাকিবুর রহমান শুভ্র’র বিরদ্ধে স্ত্রী নাজমা খাতুন বেলিকে অস্ত্র ধরে জানে মেরে ফেলা, মামলা তুলে নেওয়ার চাপ ও আগুন দিয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ জুলাই রোববার দুপুরে জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি ঈশ্বরদী সাংগঠনিক জেলা শাখা কার্যালয়ে বেলির পরিবার ও এলাকাবাসী এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের স্মরনাপন্ন হয়েছি উল্লেখ করে বেলির পিতা ইউনুস আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি অতিব দুঃখের সাথে অভিযোগ করছি যে, গত ২৮ জুলাই ১৮ শনিবার রাত আনুমানিক ৮ টার সময় আমার মেয়ে নাজমা খাতুন বেলি বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে শুভ্র অজ্ঞাত একজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে বেলির সামনে হাজির হয়ে পিস্তল উঁচিয়ে বলে, খুব বেড়ে গেছিস। মামলা তুলে না নিলে জানে মেরে ফেলবো, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারবো বলে শুভ্র হুমকি দিয়ে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০১০ ইং তারিখে আমার মেয়ে নাজমা খাতুন বেলির সাথে রাকিবুর রহমান শুভ্র’ আমাদের না জানিয়ে বেকার অবস্থায় ভালবাসা করে গোপনে বিয়ে করেন। হঠাৎ করে শুভ্র সেতু মন্ত্রনালয়ে একটি প্রকল্পে সহকারি প্রকৌশলী সিভিল পদে চাকুরিতে যোগদান করে। এরপর থেকে সে বেলির সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে নানা কায়দায় বিভিন্ন পরিমাণের টাকা দাবি করতে থাকে। আমি বেলির সুখের জন্য আমার অবসর কালিনের জমানো টাকা এবং বাড়ির খামারের গরু বিক্রির টাকা আট বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে শুভ্রকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বেলির মাধ্যমে দিয়ে থাকি। দীর্ঘদিন ধরে বেলি ও শুভ্রর মধ্যে অনৈতিক ভাবে টাকা দাবি, টাকা গ্রহণ ও খারাপ আচরণের বিষয়টি উভয় পরিবারসহ এলাকাবাসির মধ্যে জানাজানি হয়। পরে আমি ও আমার পরিবারের সকলে অতিষ্ট হয়ে স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করি।

এক পর্যায়ে পাকশীর সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের যুক্তিতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে বিচার বসানো হয়। এতে সাবেক এমপি,পাবনা-৪ সিরাজুল ইসলাম সরদার ও পাকশীর বর্তমান চেয়াম্যান এনামুল হক বিশ্বাসসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য বিচারে অংশ নেন। শুভ্রর পক্ষ ওইদিন বিচারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থান ত্যাগ করে।

সমাধান না হওয়ায় পরবর্তীতে বেলির উপর শুভ্রর অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পরে আমি দিশেহারা হয়ে পাকশী ইউপি চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হয়ে বিচার দাবি করলে চেয়ারম্যান সাহেব বিচারের দিন ধার্য করে উভয় পক্ষকে পরিষদে নির্ধারিত দিনে বিচারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে উভয় পক্ষ বিচারে হাজির হই। বিচারে উভয় পক্ষের শুনানীর পর সুষ্ঠ সমাধানের কথা বলে শুভ্রর পক্ষ ১০ দিনের সময় প্রার্থণা করলে চেয়ারম্যান দশদিন সময় দেন। দীর্ঘ এক মাসেও শুভ্ররা আর বিচারে হাজির হয়না।

অবশেষে চেয়ারম্যান গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং তারিখে পরিষদের বিচারে হাজির হওয়ার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক আমরা হাজির হলেও শুভ্ররা কেউ হাজির হয়নি। আমার মেয়ে নাজমা খাতুন বেলি বাধ্য হয়ে শুভ্রর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও পারিবারিক এই তিনটি মামলা করেন। এ অবস্থার মধ্যেও শুভ্র গং থেমে নেই। তারা বেলিসহ আমাদের বিরুদ্ধে নানা কায়দায় ক্ষতিকারক কাজ করে যাচ্ছে। আমি সাংবাদিক সম্মেলনে শুভ্র’র সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সংবাদ পরিবেশন, গ্রেফতার ও সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আবুল কালাম, আকমল হোসেন, এনামুল হক, নায়েব আলী, জহুরুল ইসলাম, আবু বক্কার সিদ্দিক, একরামুল ইসলাম, খেপু মন্ডল, শরিফুল ইসলাম ও নাজমা খাতুন বেলীসহ অন্যরা উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............