কর্মী নির্ভর হয়েও নিজের অবস্থানে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন এড. সাখাওয়াত!

কর্মী নির্ভর হয়েও নিজের অবস্থানে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন এড. সাখাওয়াত!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : রাজনীতিকভাবে নিজের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য এবার কর্মীর উপর ভর করে সুযোগ নিলেন মহানগর বিএনপি’র স্ব-ঘোষিত সভাপতি এড. সাখাওয়াত। শনিবার (৮ সেপ্টম্বর) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবীতে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালনে এড. সাখাওয়াতের নেতৃত্বে অবস্থান নিতে শুরু করেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।

এ সময় জনগনের নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ তাদের কর্মসূচি পালন করতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে উত্তেজিত কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়লে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ৪ জন কর্মীকে। এক পর্যায় আটককৃত নেতাকর্মীদের ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সাথে সাখাওয়াত ধস্তাধস্তি করলেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সেই সাথে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে নানা প্রশ্ন, প্রশাসনের কর্মকান্ডেও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

এ বিষয় দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, মহানগর বিএনপি’র মুল সংগঠন থেকে ছিটকে পরা এড. সাখাওয়াত মনোণয়ন পাবার আশায় দলের সাংগঠনিক নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে নিজের মণগড়া নিয়মে স্ব-ঘোষিত সভাপতি হিসেবে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আজকের কর্মসূচিতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। নিজে সভাপতির অবস্থান নিয়ে আরেও এক সহ-সভাপতি এড. হুমায়ুনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে কর্মসূচির আয়োজন করেন। যেখানে তার আহবানে দলের একাংশের কর্মীরা উপস্থিত হয়েছেন কর্মসূচি সফল করার জন্য। কিন্তু সেখান থেকে তাকে বা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে আটক না করে তৃনমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার বিষয়টিকে আমরা কিভাবে দেখবো। সেই সাথে ঘটনাস্থলে সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের সাথে আসামী নিয়ে সাখাওয়াতে ধস্তাধস্তিও হয়েছে, যা কিনা পুলিশের কাজে বাধাঁ দেয়ার সামিল। কিন্তু রহস্য জনক ভাবে তাকে গ্রেফতার না করে উল্টো হাসি মুখে প্রসাশনের কথা বলাকে আমরা কি মনে করবো? এটা কি এড. সাখাওয়াত নিজের অবস্থান কেন্দ্রীয় পর্যায় পাকাপোক্ত করতেই পুর্ব পরিকল্পনার অংশ।

দলীয় নেতাকর্মীদের এই প্রশ্নের জবাব নিয়ে ধুম্রজালে আবদ্ধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত এর উত্তর হয়তো মাটি চাপাই পরে যাবে। থাকবে কর্মীদের হাতে কড়া আর এড. সাখাওয়াত লুটবে নিজের ফায়ঁদা।

এ বিষয় নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমরা জনগনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তাদের কর্মসূচি পালন করতে নিষেধ করি। এক পর্যায় পিছন থেকে কর্মীরা আমাদের লক্ষ করে ঢিল ছুড়লে তাদের ছত্রভঙ্গ করতেই ধাওয়া দেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

এ সময় তিনি এড. সাখাওয়াতের সাথে ধস্তাধস্তির কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি আসামীদের ছাড়িয়ে নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেননি। আমরা তার সম্মানের কথা চিন্তা করে গ্রেফতার করিনি। তবে এবিষয় সদর মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............