কুমিল্লায় হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৫ সদস্য!

0
27
কুমিল্লায় হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৫ সদস্য!

অনলাইন ডেস্ক : ২০১৩ সালে গাজীপুর আব্দুস সালাম মসজিদের খতিব, মাওলানা আব্দুল মালেক এর হাত ধরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাটির পাড় গ্রামের প্রদীপ কুমার সাহা সহ পরিবারের পাঁচসদস্য।

তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর সাড়ে চার বছর পর আসলেন নিজ গ্রামে। বাঁধা ছিল সমাজ এবং তাদের সনাতন ধর্মের পরিবাররা। এ খবর পাওয়ার পর হাটি পাড় মুসলিম সমাজ ওই পরিবারকে এলাকা আশার জন্য আহবান করে।

স্থানীয় মুসলিমদের আশ্বাস পেয়ে দীর্ঘদিন পর তারা নিজ গ্রামে আসেন। তাদের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মুসলিম মাতব্বররা ও মসজিদের খতিব মাওলানা মোতায়ের মোতাহের হোসেন উৎসাহ উদ্দীপনা যোগায়।

বর্তমানে প্রদীপ কুমার সাহা মুসলিম হওয়ার পর নতুন নাম রাখা হয় নুর মোহাম্মদ। তার সাথে ছিলেন তার দুই ছেলে স্ত্রী ও শাশুড়ি। বড় ছেলে যার সনাতন ধর্মের নাম ছিল ইমন সাহা, মুসলমান হওয়ার পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ ইসমাইল হাসান। ছোট ছেলের নাম ছিল সৈকত সাহা, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার বর্তমান নাম মোঃ শাহাদাত হোসেন।

তার স্ত্রী সরস্বতী যার বর্তমান নাম খাদিজাতুল কোবরা এবং নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির নাম ছিল সুমি রানী, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার নাম রাখা হয় ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজ ভূমে ফিরে এক প্রতিক্রিয়ায় নুর মোহাম্মদ বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে ইসলাম ধর্মের কোরআন ও হাদিসের বাণী এবং বিভিন্ন আলেম ওলামাদের বয়ান থেকে শুনার পর মনে হয় ইসলাম ধর্ম তার নাজাতের জন্য যথেষ্ট এবং আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সর্বশেষ নবী বলে মনে করেন।

ইসলাম ধর্ম সঠিক মনে করে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এসময় তার বড় ছেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্ম পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম তাই সে তার বাবা-মা ছোট ভাই এবং তার নানুকে নিয়ে পবিত্র ধর্ম ইসলাম কে গ্রহণ করেন।

আমাদের ধর্ম ত্যাগের কথা শুনে পূর্বের ধর্মাবলম্বীরা গত বৃহস্পতিবার দলবল নিয়ে এসে তারা মানসিক টর্চার শুরু করেন। পরে স্থানীয় মসজিদের খতিব সহ এলাকার লোকজন শুনে ছুটে গিয়ে সহযোগীতা করেন।

নুরমোহাম্মদ বলেন, মুসলিম সমাজের সকলেই আমার পাশে আছেন এবং আগামী দিনেও তারা আমার পাশে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আগামী দিনে আমার বিপদে আমার সমাজসহ দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

মাওলানা মোঃ তাহের বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মের প্রতি উদার অনেক ভূমিকা রয়েছে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক কামাল হোসেন বলেন, আমরা সামাজিকভাবে এই নব মুসলিম পরিবারকে সহযোগিতা করছি। আমাদের পাশাপাশি অত্র উপজেলা সহ দেশ-বিদেশের

সকল মুসলমান যদি সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে তাদের সহযোগীতা করতে পারেন তা হলে তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগবে না। কারণ পূর্বের সনাতন ধর্মে পরিবার পরিজনরা তাদের সকল সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............