‘ক্রস বর্ডার’ বাণিজ্য রমরমা

অনলাইন ডেস্কঃ চার লাখ টাকার মোটরসাইকেল এক লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকার ক্যামেরা ১৫ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনসেট ১৭ হাজার টাকা!

কোনো দোকানের মূল্য হ্রাসের বিজ্ঞাপন নয় এটি। সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভারত থেকে নানা কায়দায় অবৈধভাবে এনে এসব জিনিস এমন দামেই বিক্রি করছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। এ অঞ্চলে এটি ‘ক্রস বর্ডার’ বাণিজ্য নামে পরিচিত।

অবৈধভাবে আনা এসব পণ্য রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাড়িতেও পৌঁছে (হোম ডেলিভারি) দেওয়া হয়। এমনকি কুরিয়ারযোগে পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতার কাছে। বেনাপোল, দর্শনা, হিলি সীমান্তকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধচক্র সারা দেশেই এই পণ্য সরবরাহ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে বৈধভাবে আনা এসব পণ্যের আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের দুর্ধর্ষ অপরাধীরা এই ‘ক্রস বর্ডার’ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। নতুন মডেলের মোটরসাইকেল, ক্যামেরা, মোবাইল ফোনসেট চুরি-ডাকাতি করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে আসে তারা। পরে চাহিদামতো বাংলাদেশের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। এই সদস্যরা নানা কৌশলে পণ্যগুলো বিক্রি করে। কাস্টমসের নিলামের কাগজ দেখিয়ে বিক্রি করা হয় কমদামি মোটরসাইকেল।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এদের সঙ্গে কাস্টমস ও বিআরটিএর কিছু অসহৃ কর্মীর যোগসূত্র রয়েছে। এদের মাধ্যমেই কিছু কিছু মোটরসাইকেল বৈধতা পেয়ে যায়। যেসব মোটরসাইকেল এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আমদানি হয়নি, সেসব মোটরসাইকেলও ‘ক্রস বর্ডারের’ মাধ্যমে চলে আসছে।

ওই চক্রের কাছ থেকে পণ্য কেনা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের হোন্ডা সিবিআর মোটরসাইকেল বি

ক্রি হচ্ছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। কেটিএম আরসি ছয় লাখ টাকার মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। ইয়ামাহা আরওয়ানফাইভ পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকার মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা। সুজুকি জিএসএক্স তিন লাখ ৭০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৮টি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল অবৈধভাবে এনে একেবারে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ৩০ হাজার টাকা দামের নাইকন ডি-৩৪০০ ক্যামেরা ১৪ হাজার টাকায়, ৩০ হাজার টাকার ক্যানন ৭০০ ডি ক্যামেরা ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৫০ হাজার টাকা দামের স্যামসং গ্যালাক্সি এস-৯ মোবাইল ফোন ৩০ হাজার টাকা, এক লাখ ৫০ হাজার টাকার আইফোন-এক্স মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা, ৩০ হাজার টাকার হুয়াই নোভা-৩ মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা।

এসব পণ্যের এমন মূল্যতালিকা দিয়ে ফেসবুকে ‘বর্ডার ক্রস বাইক’ নামে একটি পেজে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে আমরাই দিচ্ছি স্বল্পমূল্যে ইন্ডিয়ান বর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল। আমাদের এখান থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন নতুন মোটরসাইকেল কিনতে পারবেন কাস্টমস পেপারসহ। আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সারা দেশে বাইক ডেলিভারি দিয়ে থাকি। বাইকের সঙ্গে আপনাকে কাস্টমস পেপার দেওয়া হবে এবং কোর্ট অকশন পেপারও দেওয়া হবে। অকশন পেপারের সঙ্গে নাম্বারপ্লেটও দেওয়া হবে। আমাদের প্রতিনিধি আপনার লোকেশনে বাইকটি দিয়ে আসবে।’

একটি সূত্র জানায়, ক্রস বর্ডার বাণিজ্যের সদস্যরা ভারতের বিভিন্ন শোরুম থেকে কিংবা কারখানা থেকে মোটরসাইকেল অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতি করে হাতবদলের মাধ্যমে তা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দেয়। এসব মোটরসাইকেল সীমান্তের ওপারে নিরাপদ ঘাঁটিতে রাখা হয়। ক্রেতার চাহিদার ভিত্তিতে মোটরসাইকেল বাংলাদেশের চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মাঝে মধ্যে আমরা ভারত থেকে আনার সময় অবৈধ মোটরসাইকেল জব্দ করি। তবে ক্রস বর্ডার সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।’

শব্দপাতা ডট কম/তুষার অপু

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............