খালেদা কারাগারে, তারেকের যাবজ্জীবন : নির্বাচন নিয়ে শংকিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

খালেদা কারাগারে, তারেকের যাবজ্জীবন : নির্বাচন নিয়ে শংকিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

শব্দপাতা রিপোর্ট : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১০ অক্টোবর বুধবার গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এমন সার্বিক পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা বেশ শংকিত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। কোন ক্রমেই দলটি ঘুরে দাড়াতে পারছেনা। এরি সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা। কেউ রয়েছেন কারাগারে। কেউবা রয়েছেন গ্রেপ্তার ভয়ে আত্মগোপনে। রাজনৈতিক সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ঘুরে দাড়ানোর সাহসটুকুই দিন দিন হারিয়ে ফেলছে এসব কারনে।

জানাগেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেন আদালত। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন করাতে পারছেনা বিএনপি। একাধিকবার তার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি কর্মসূচি সারাদেশে পালন করে। তার মুক্তি সহ তার সুচিকিৎসার দাবিতেও কর্মসূচি পালন করেছিল বিএনপি। এসব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলার শিকার হয়েছেন।

এদিকে ১০ অক্টোবর বুধবার গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেয়া হলো যাবজ্জীবন কারাদন্ড। যদিও তিনি আসামি হিসেবে পলাতক দেখানো হয়েছে। তিনি রয়েছেন লন্ডনে। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে প্রভাব পড়েছে। বেশ হতাশায় ভুগছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নিরাশা দেখছেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস মুক্ত না হওয়া ও তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদন্ডে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা বেশ শংকিত।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, তাদের নেত্রী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি এমন অবস্থায় থাকে তাহলে তাদের কি হবে। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা অনেকটা ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন। সামনে তারা উজ্জল ভবিষৎ দেখতে পাচ্ছেন না। নেতাকর্মীদের ঘারে মামলার বোঝা মামলা গ্রেপ্তার ভয়ে আছেন অনেকে আত্মগোপনে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আতংকে তেমন কোন অবদান রাখতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তাছাড়া এমন পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা তেমন কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নারাজ। যাতে তারা নতুন কোন মামলায় আসামি না হন। আগের অনেক মামলায় নেতাকর্মীদের অনেকের জামিনও হয়নি। জেলার অনেক শীর্ষ নেতাও রয়েছেন জামিন ছাড়া।

নারায়ণগঞ্জ ছাড়া রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদও রয়েছেন আড়ালে। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহআলম, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন, সাবেক এমপি রেজাউল করিম, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, সাবেক এমপি আবুল কালামকেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছেনা। এর মধ্যে আবুল কালাম রয়েছেন চিকিৎসাধীন হাসপাতালে ও শাহআলম রয়েছেন বিদেশে। বিদেশে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামালও। জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুচারজন নেতা ছাড়া বাকিদের প্রকাশ্যেই দেখা যাচ্ছেনা। একই অবস্থা অন্যান্য থানা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও। এমন পরিস্থিতিতে আবার বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টিতে যোগদানের হিড়িক পড়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............