চরম ব্যর্থতায় বাংলাদেশ,শেষ হাসি নিয়ে মাঠে ছাড়লো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0
76

খেলাধুলা ডেস্ক : লক্ষ্যটাকে বর্তমান টি-২০ যুগে আহামরি কিছু বলা যাবে না। কিন্তু মিডল অর্ডারের চরম ব্যর্থতায় ১৯১ রানের টার্গেটই একসময় দুর্ভেদ্য হয়ে উঠলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করা লিটন দাস শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন সতীর্থদের আসা-যাওয়ার প্রতিযোগিতা। তারই খেসারত হিসেবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিকদের ৫০ রানে হারিয়ে শেষ হাসি নিয়ে মাঠে ছাড়লো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ জয়ের ফলে সিরিজটাও ২-১ এ জিতে নিলো সফরকারীরা। ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশতিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে শনিবার মিরপুরে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই ক্যারিবিয়ান অপেনার এভিন লুইস ও শাই হোপ ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত রচনা করে দেন।

ব্যাট করতে নেমে শাই হোপকে নিয়ে টাইগার বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন লুইস। ১৮ বলে তুলে নেন ফিফটি। তবে দলীয় ৭৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সাকিব। ১২ বলে ২৩ রান করা শাই হোপকে ক্লিন বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান টাইগার কাপ্তান।

কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না এভিন লুইসকে। আরও একবার তার বিধ্বংসী রুদ্ররূপ দেখলো মিরপুরের গ্যালারি। তার একের পর এক চার-ছক্কায় মাত্র ৭ ওভার ১ বলেই ১০০ রান তুলে ফেলে ক্যারিবিয়রা। কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিল না তখন ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাত্র ৩৬ বলে ৮৯ রান করা লুইসকে বোল্ড আউট করার পরের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শিমরন হেটমায়ারকে। ৮টি ছক্কা ও ৬টি চারের মারে ৮৯ রান করেন লুইস।

এর পর দলীয় ৯০ রানে কিমো পলকে আরিফুল হকের ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ৩ বলে ২ রান করেন পল।

দলীয় ১২২ রানে শিমরন হেটমায়ার আউট হওয়ার পর ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আর কেউ তেমনভাবে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৪ বল হাতে রেখেই ১৯০ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

দলের পক্ষে অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নিকোলাস পরান ২৪ বলে ২৯ রান করেন। এছাড়া অধিনায়ক কালোর্স ব্রাথওয়েট ৮, রাদারফোর্ড ২, অ্যালেন ৮ ও কটরেল ২ রান করেন।

টাইগার বোলারদের মধ্যে ৩.২ ওভারে ১৮ রান দিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩টি, ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে সাকিব আল হাসান ৩টি, ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে মোস্তাফিজ ৩টি উইকেট নেন।

মাত্র ৭.১ ওভারে ১০০ ছুঁয়ে ফেলা উইন্ডিজ রানটাকে ২২০-২৩০ এর কাছাকাছি হয়তো নিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সেখানে বড় বাধা হয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সফরকারীদের বেঁধে ফেলেন ১৯০ রানে।

তবে ব্যাট হাতে একমাত্র লিটন দাস ছাড়া কাজের কাজ কেউই করতে পারেননি। দলীয় ২২ রানে ব্যক্তিগত ৮ রান করে তামিম রান আউট হয়ে ফিরে যাওয়ার পর সৌম্য-লিটন মিলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। তবে একই ওভারে সৌম্য ও সাকিবকে ফিরিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান ক্যারিবিয়ান স্পিনার অ্যালেন। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১ রান যোগ হতেই পলের শিকার হন মুশফিকুর রহিম।

দলীয় ৬৬ রানে টপঅর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে মূলত ম্যাচেরই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এর পর দলীয় ৮০ রানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১১) ফিরে গেলে একমাত্র আশার প্রদীপ জ্বেলে ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন লিটন দাস। কিন্তু রিয়াদের পর লিটন দাসকে ফিরিয়ে দলের জয়ের পথটা সহজ করে দেন পেসার কিমো পল। ২৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটিতে ৩টি ছক্কা ও ৩টি চার হাঁকান লিটন। আরিফুল হকও ফিরেন শূণ্য রানে।

শেষ দিকে মেহেদি হাসান মিরাজ ও আবু হায়দার রনি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। আর তাতে ৩ ওভার হাতে রেখেই ১৪০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

ক্যারিবিয়ান বোলারদের মধ্যে ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে একাই ৫ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া অ্যালেন ২টি, কটরেল ও ব্রাথওয়েট নেন ১টি করে উইকেট। ম্যাচসেরা হন এভিন লুইস, সিরিজ সেরা সাকিব আল হাসান।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............