ছাতকে ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট

ছাতকে ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট
ছাতকে প্রতিপক্ষের হামলায় লন্ডভন্ড বসতঘর

ছাতক প্রতিনিধি : ছাতকের পল্লীতে ঘরে থাকা ঘুমন্ত মানুষের উপর বর্বরোচিত হামলা ও বসতঘর ভাংচুর এবং লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। একদল সশস্ত্র লোক তান্ডব চালিয়ে বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট ও বাড়ির গাছ-পালা কর্তনসহ একটি সাজানো সংসারকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। হামলায় নারী-শিশুসহ পরিবারের ৪ সদস্য আহত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ নভেম্বর ভোরে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামে। জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনসহ মোট ৫ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় গ্রামের নির্যাতিত মৃত ছাইম উল্লাহর পুত্র মবশ্বির আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের নাছির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, শরীফ উদ্দিনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা যায়, বাড়িয়ান ১৬ শতক ভুমি নিয়ে মবশ্বির আলী ও একই গ্রামের রফিজ আলীর পুত্র নাসির উদ্দিন পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। পূর্ব পুরুষ থেকে ভোগ-দখলে থাকা মবশ্বির আলীর এ ভুমি বর্তমানে অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় লিপিবদ্ধ হলে অর্পিত সম্পত্তি থেকে এ ভুমিকে অবমুক্ত করতে মবশ্বির আলী সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি আপিল মোকদ্দাম (নং-৫৩/১৭) দায়ের করেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, অর্পিত সম্পত্তির সূত্র ধরে প্রতিপক্ষরা জোর দখলের মাধ্যমে এ ভুমি নিজেদের দখলে নিতে একাধিকবার আক্রমাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। ভুমি রক্ষায় মবশ্বির আলী বাদী হয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারায় সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা(নং-৩৯৪/১৮) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতাবস্থা রক্ষার্থে প্রতিপক্ষ লোকজনকে এ ভুমিতে সর্ব প্রকার অনধিকার প্রবেশ না করার জন্য আদালত কর্তৃক ২০১৭ সালে ৪ এপ্রিল নোটিশ প্রদান করা হয়।

এতে প্রতিপক্ষের লোকজন অতিমাত্রায় ক্ষীপ্ত হয়ে এ ভুমি আবারো জোর দখলের পায়তারা চালায়। বিষয়টি জাহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অবহিত করেন মবশ্বির আলী। আদালতের অপর এক আদেশে গত ১২ নভেম্বর জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বেলাল আহমদ আইন-শৃঙ্খলা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু আইনী সকল প্রক্রিয়াকে অমান্য করে ১৪ নভেম্বর ভোরে ১৫-২০ জনের সশস্ত্র দল নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত মানুষ রেখে চালায় নারকীয় হামলা। মুহুর্তের মধ্যে তারা বসতঘরকে ভুমির সাথে মিশিয়ে দেয়। ঘরের ঘুমন্ত মানুষ আত্মচিৎকার করে ঘর থেকে বাইরে এসে নিরাপদ আশ্রয় নেয়ার সময় শিশু-নারীসহ অন্তত ৪ ব্যক্তি আহত হয়। হামলাকারীদের প্রায় দেড় ঘন্টার তান্ডবে বসত ঘর লন্ডভন্ড, বাড়ির গাছ-গাছরা ও বাঁশ ঝাড় কেটে সাবার করে ফেলে।

এসময় হামলাকারীরা ঘরের চালা, গবাদিপশু, ধান, আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বেলাল আহমদ ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে নাসির উদ্দিন, শরীফ উদ্দিন ও ফারুক উদ্দিনসহ নির্যাতিত মবশ্বির আলী ও আব্দুল আহাদকে আটক করে।

গ্রামের সমছু মিয়া, আজর আলী, ছামির উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, মাসুক আলী, মুক্তিযোদ্ধা কালা মিয়াসহ লোকজন জানান, যুগ-যুগ ধরে এ ভুমি ভোগ-দখল করে আছে মবশ্বির আলী ও তার পরিবার। এ ভূমি নিয়ে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারন করে দেয়া হলেও প্রতিপক্ষগণ তা অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে। হামলার বিষয়টি অমানবিক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে তারা মন্তব্য করেন। মবশ্বির আলী জানান, প্রতিপক্ষরা আইন অমান্য করে ঘুমের ঘরে হামলা চালিয়ে ও লুটপাট করে তাকে সর্বশান্ত করেছে। তারপরও পুলিশ তাকে ও তার স্বজন আব্দুল আহাদকে গ্রেফতার করে। সে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খয়ের জানান, অন্যায়ভাবে ভারাটে লোক দিয়ে মবশ্বির আলীর বসতঘর ভাংচুর ও গাছপালা নিধন করা হয়েছে। বিষয়টি অমানবিক ও নির্মম।

এ ব্যাপারে সিনিয়র এএসপি ছাতক সার্কেল দুলন মিয়া জানান, তাদের মধ্যে ভুমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তিনি জানেন। হামলার বিষয়ে অভিযোগের আলোকে তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............