ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আদর্শিক রাজনীতি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
96
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আদর্শিক রাজনীতি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ফাইল ছবি

শব্দপাতা ডেস্ক : ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ভোগ বিলাসে গা না ভাসিয়ে আদর্শিক রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে রাজনীতি করলে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

শুক্রবার (৩১ আগস্ট) বিকালে গণভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রতিটি ছেলেমেয়েকে সবার আগে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সব থেকে বড় সম্পদ হলো শিক্ষা। ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না। কেউ যদি অনেক সম্পদ বানিয়ে খুব গর্ব করে, চিরদিন তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু শিক্ষা এমন একটা সম্পদ যে সম্পদ কেউ কোনোদিন কেড়ে নিতে পারে না। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। এখন তো আমার বয়স হয়ে গেছে। তোমরা হলে ভবিষ্যৎ। তোমরা নেতৃত্ব দেবে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় সম্পদ। আর সেই শিক্ষা ও আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবেই রাজনীতি শুরু করেছি। আর দলের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দেশে ফেরার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ও স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবন দিয়েছেন। আর তার পাশে থেকে নিভৃতে সংসার, দল ও দেশের জন্য কাজ করে গেছেন তার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তাদের কাছ থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার রাজনীতি শিখেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কখনো গ্রেনেড হামলা, কখনো গুলি, কখনো ট্রেনে আঘাত, নানা ধরনের, বোমা-বিরাট বোমা পুঁতে রাখা, অনেক বাধা-বিঘ্ন। আমি তো কখনো সেগুলো পরোয়া করিনি। কারণ আমার আত্মবিশ্বাস যে আমি যে পথে যাচ্ছি, ন্যায় ও সত্যের পথে যাচ্ছি। আমার রাজনীতি বাংলার জনগণের জন্য। যে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য আমার বাবা তার জীবন দিয়ে গেছেন, আমার মা জীবন দিয়ে গেছেন, আমার ভাইয়েরা জীবন দিয়ে গেছেন; সে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সেটাই আমার একমাত্র রাজনীতি।’

সাম্প্রতিক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল। এটা দেখে বিভিন্ন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়। তাদের এই বিক্ষুব্ধ মনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য একদল নেমে পড়ল। এর মধ্যে অনেকেই জ্ঞানী-গুণী। অনেকেই আঁতেল। অনেকে একেবারে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। খ্যাতিসম্পন্নরা কী করেছে?’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আমি গড়ে দিয়েছি, আর সে সুযোগ নিয়ে তাদের কাজ হয়ে গেল। তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে অপপ্রচার চালালো, মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে মানুষকে উস্কানি দিল। এই উস্কানিতে কত শিশুর জীবন যেতে পারত। কত শিশু বিপদে পড়তে পারত। একবারও তারা ভাবল না। বরং শিশুদের বিক্ষুব্ধ মনকে কাজে লাগিয়ে তারা ফায়দা লুটতে চেয়েছে। আর তাদের প্রতি যখন ব্যবস্থা নিলাম, তখন চারদিকে হাহাকার। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিভিন্ন চাপ।’

এ সময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও বক্তব্য দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন............

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here