ছাত্র জীবনে ইন্টারনেটের প্রভাব

0
4
ছাত্র জীবনে ইন্টারনেটের প্রভাব

ইসমাইল হোসেন : শিক্ষার্থী বলতে আমরা বুঝি যারা পড়াশোনা করে। কিন্তু ব্যাপক অর্থে বুঝায় পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। শিক্ষা বর্তমানে আমাদের সকলকে এমন একটা বিষয় বুঝতে শিখিয়েছে। যা ভবিষ্যৎ কি ভাবে? কেমন ভাবে গঠন করতে হবে। শিক্ষা কথাটি পড়াশুনা অর্থে বেশিরভাগ ব্যাবহার করা হলেও আমার কাছে শিক্ষা হলো একটি ম্যাপ এর মত, যা ঠিক করে দিবে কোন পথে গেলে কোন জায়গায় যেতে পারবো, আমি নিজেই শিক্ষাকে একটি ম্যাপ এর সাথে তুলনা করি। শিক্ষার সাথে বর্তমানে ইন্টারনেট কথাটি জড়িত। ইন্টারনেট কথাটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত।

বর্তমানে ছাত্র জীবনের সাথে ইন্টারনেট ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে পড়েছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়, সভ্যতার নতুন দৃশ্য এখন ফুটে উঠেছে এবং তা সম্ভব হয়েছে ইন্টারনেটের আবির্ভাব এর কারনে। ইন্টারনেট মূলত আবিষ্কার হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থার পথকে সুগমন করার জন্য।সমগ্র সারাবিশ্ব ছড়িয়ে আছে অসংখ্য কম্পিউটার যেগুলো ব্যাবহার হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে হিসাব নিকাশ থেকে শুরু করে নানা রকম কাজে। বর্তমানে ইন্টারনেটের সুযোগ সুবিধা স্বীকার না করলেই নয়।

যা সারাবিশ্বকে এখন হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে।আমরা সকলেই অবগত রয়েছি ইন্টারনেট আমাদের জন্য যেমন ভাবে কল্যাণ বয়ে আনছে, ঠিক একই ভাবে নৈতিক অধপতন ও ঘটাচ্ছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম সংঘটিত হচ্ছে এবং তা ব্যাপক আকার ধারন করেছে। ব্যাবহারকারীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন ভাবে সাধারন মানুষদের ধোঁকা দিয়ে আসছে, যা আসলেই ন্যাকারজনক।

এতে করে সমাজে, দেশে দেখা দিচ্ছে নানা রকম সমস্যা। বর্তমানে ছাত্রজীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশী। ইন্টারনেট ব্যবহার মূল সমস্যা নয় বরং এর অপব্যবহার ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারই মূল সমস্যা। ইন্টারনেট বর্তমানে সারাবিশ্ব একটি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যাম। এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ইতিমধ্যে যা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় প্রকট আকার ধারন করেছে। ছাত্রজীবন হচ্ছে ভবিষ্যৎ নির্ধারনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়, এই সময় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সময়।

কিন্তু এখনকার আধুনিক সময়ে শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সময়ই ইন্টারনেট ব্যাবহারের মধ্যেই থাকে। পড়ার সময়ে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশী। যা পড়ালেখার ক্ষতি করে। বর্তমানে দেখা যায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই শিক্ষার্থীরা মোবাইলে গেমস খেলে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আসক্ত থাকে, গান শুনে, অযথা দীর্ঘ সময় নিয়ে মোবাইলে কথা বলা, এতে করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা। তারা গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে এসবের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে যা তাদের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনবে না।

পড়ালেখার সময়টা তারা ব্যয় করছে অন্যদিকে সময় পার করে। যা আসলে করা উচিত নয়। যার ফলস্বরুপ দেখা যায় পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করা থেকে নানা সমস্যা, এমনকি এর অত্যাধিক ব্যাবহারের ফলে নানা রকম শারীরিক সমস্যা ও দেখা দেয়, যেমন মাথা ব্যাথা, হাত অবশ হয়ে যাওয়া, কানে কম শোনা, সারাশরীর ব্যাথা করা, কোন কাজে মন না বসা ইত্যাদি।

আমাদের সকলকে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সকলকে সচেতন করতে হবে, প্রয়োজনে সরকারি/বেসরকারি ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে, এর ভালো এবং খারাপ দিক মানুষকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল গুলোতে ও নাটকের মাধ্যামে প্রচার করে এর মন্দ দিক সম্পর্কে মানুষকে অবগত করতে হবে। তবেই হয়তো আমরা প্রযুক্তির অভিশাপ থেকে নিজেদের কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারবো।

লেখক:
ইসমাইল হোসেন
দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র
হাটহাজারী সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন............