জেনে নিন সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ

0
50

শব্দপাতা ডেস্ক : সারা দেশ জুড়ে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জাতীয় পার্টির মতো গৃহপালিত বিরোধীদল দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে কি? হলে তা কতটুকু! সে ক্ষেত্রে সরকার স্বৈরাচারী আচরণে চলে যাবে কি যা আমাদের সবার জন্য অমঙ্গলের বার্তা। নাকি সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মত উন্নয়নের লাল ঘোড়ায় চাপবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ! বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সরকার আর সরকার গঠনকারীদল একাকার হয়ে গিয়েছিল। লুটপাট আর সরকারী অর্থ লোপাটে ছিল বিভোর। বিএনপি দলের কাজে মন দেয়নি, ফলে তারা সাংগঠনিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ২০০৮ সালে তাদের পরাজয় অনিবার্য হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে এসে দলটির আগুন সন্ত্রাস আর মানুষকে তার ভোটাধিকারের মত মৌলিক অধিকার প্রয়োগে বাঁধা, ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়ার মহোৎসবে বিএনপি- জামায়াত মূলত একটা কাগুজে বাঘে পরিনত হয়। তাদের জোটের নেতা দেলয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে পাঠিয়ে সারা দেশে যে মহাতাণ্ডব তারা চালানো হয়, তাতে বাস্তবে জন মানুষের মাঝে দলটির গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে পড়ে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট একটা বড় রাজনৈতিক জোট হয়ে টিকে থাকে বাংলাদেশের সরকার বিরোধী কিছু বাংলা-ইংরেজী পত্রিকা আর সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যণে।

অনেকে বলেন বিএনপি কোন দল না, যেমন জামায়াত, কম্যুনিস্ট পার্টি, আওয়ামী লীগ, জাসদ, বাসদ, ইত্যাদি রাজনৈতিক দল। বিএনপি হ’লো সুবিধবাদী রাজনীতিকদের একটা প্লাটফর্ম। তাই সুবিধা থাকলে বা সুবিধার সম্ভবনা থাকলে এই দল চাঙ্গা থাকা বাকী সময় থাকে না। তাইতো ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র তথাকথিত ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন পাননি, পেয়েছেন মনোনয়ন বানিজ্যে চড়া দর হাঁকতে পারা সুবিধাবাদী মানুষেরা যারা মনে প্রাণে আওয়ামী লীগ তথা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পূজারী। জামায়তের দলীয় রেজিস্ট্রেশন বাতিল হলেও টাকার বিনিময়ে কুখ্যাত জামায়াত নেতা আর তাদের আওলাদেরা মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিলেতে থাকা তারেক জিয়ার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রতীক পেয়ে যায়। ফলে সারা দেশে ভোটের দিন দলে দলে গিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রদানের আহবান কিংবা কেন্দ্র পাহারা দেবার মত কোন আহবানে সাধারণ মানুষ সাড়া দেন নি। তারা সরকার গঠন তো দুরের কথা বিরোধী দল হবার মত শক্তি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে ২০ দলীয় বিএনপি-জামায়াত জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব একটা সুবিধা পারার সম্ভাবনা কম বলেই সরকারবিরোধী আন্দোলন জমবে না সেটা এখন সবার মুখে মুখে। তাই উন্নয়নের রাজনীতির কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী হয় দেশের, দলের না। বিরোধীদলীয় নেতাও হন দেশের, দলের না। তারা উভয়ের দেশের মানুষের, দেশের স্বার্থে কাজ করবেন এটা মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশা। শেখ হাসিনা কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, শুধু আওয়ামীলীগের না। যখন উনি শুধু আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রী হবেন তখন তাঁর দল আর সরকার একাকার হয়ে যাবে। সরকার চলবে হয়তো ভালো কিন্তু পরবর্তীতে আর দল থাকবে না। বিরোধীদল হ’লে আর সরকারের অবিচার বা কোন অনাচারের মোকাবিলায় সামর্থ্য হবে না যেমনটি হচ্ছে এখন বিএনপির ক্ষেত্রে। সরকারে থাকার সময় বিএনপি আর সরকার একাকার হয়ে গিয়েছিল এর পরে ২০১৪ সালের অগ্নি সন্ত্রাস বিএনপিকে কাগুজে বাঘে পরিনত করেছে। তাই তাদের সাংগঠনিক তেমন কোন শক্তি এখন নাই যা একদল সুবিধাবাদী মানুষ তাদের কাছে প্রত্যাশা করে। দল আর সরকার একাকার হয়ে গেলে পরে আওয়ামী লীগও একই অবস্থায় পড়বে যখন সে বিরধীদলে যাবে বা না গেলেও বিরোধীদলের দুর্বার আন্দোলনের মুখে তখন সরকারের পতন অনিবার্য হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে “এ সরকার অবৈধ তার কোন কথা/ আইন মানব না” এমন কথা বলেছিল বিএনপি ও তার মিত্ররা। কিন্তু রাজনীতির বাতিল নেতা ড. কামাল হোসেনের সাথে ঐক্যফ্রন্ট করে তারা এই তথাকথিত ‘অবৈধ সরকারের সাথে সংলাপে বসে, সরকাকে ‘বৈধতা’ দিয়েছিলো। তারা সরকারের কাছে সভা করার অনুমতি চেয়েছে, বিভিন্ন দাবী মেনে নেওয়ার জন্য দেশী বিদেশী বিভিন্ন দেশের কাছে ধর্না দিয়েছে? সরকার অবৈধ হলে তার সব কিছু অবৈধ। উনারা কেন অবৈধ কিছুর দিকে ধাবিত হয়েছিলেন? অবৈধকে হটিয়ে বৈধের প্রতিষ্ঠা কেন করেন নি! আসলে তাদের সেই শক্তি ছিল না, এখন তো আর কিছুই নেই। বিএনপি এখন মুসলীম লীগ হতে চলেছে! আগামী পাঁচ বছরে হয়তো বিএনপি’র মুসলী লীগ হবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।

শুধু ব্যক্তি জীবনে নয় রাজনীতিতেও একটা ভুলের মাশুল গুনতে হয় অনেকদিন। কোন একবার বড় কোন ভুল হয়ে গেলে সতর্কতার সাথে তার মোকাবিলা করতে হয়। চাটুকারদের কথায় না, নিজের আর ভাল লোকের পরামর্শ নিয়ে কৌশলে এগুতে হয় ভুল, হটকারী কথা, কাজ শুধরাতে। আর শব্দবোমা না ছুঁড়ে, ষড়যন্ত্র না করে, সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন না দেখে জনগনকে সাথে নিয়ে ক্ষমতা দখল করতে হয়, যেমনটি করেছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে বিএনপি’র একতরফা নির্বাচনের পরে। হটকারী কাজ আর শব্দবোমা ছুঁড়লে লক্ষ্য অর্জন পিছিয়ে যায়। লক্ষ্য অর্জনের ক্ষমতা থাকাই যথেষ্ট নয়, অর্জন ঘরে তোলার জন্য চাই রণনীতি আর রণকৌশল আর তার সুচারু বাস্তবায়ন। বিএনপি তা পারেনি তাই বাংলার মানুষ হতাশ হয়েছে লক্ষ্য অর্জনে বার বার বিএনপি ব্যর্থতা দেখে। এমতাবস্থায় শাসকদল আর সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ আবিস্কার করলেও তাদের গদিচ্যুত করতে পারেনি তারা। গ্রামে থাকা বিএনপি সমর্থকরা দিনে দিনে তাদের দৈনন্দিন অসুবিধায় সোশ্যাল পাওয়ার ব্যালান্স করতে গিয়ে, নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের সাথে মিলে মিশে থাকতে থাকতে তারাও হয়ে যাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক।

পৃথিবীতে কখনোই কোন স্থান শুন্য থাকে না। কোন না কোন ভাবে শুন্য স্থান পূরণ হয়ে যায়। ২০ দলীয় বিএনপি-জামায়াত জোটের ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সরকারবিরোধী রাজনীতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে সুবিধাবাদীরা একাট্টা হয়ে গত ১০ বছরে চুপি চুপি আওয়ামী লীগ ও তার শরিক মিত্রদের দলে ভিড়ে গেছে। এরাই সরকারের জন্য চরম মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়াবে আগামীতে। কারণ এরা সবাই এসেছে সুবিধাবাদী প্লাটফর্ম থেকে। গায়ে মুজিব কোর্ট, মুখে বঙ্গবন্ধু বলে জিকির করা অধ্যাপক আবু সাঈদ বা সুলতান মনসুরদের মত অনেকেই আছে জোট বা দলের মাঝে। নির্বাচন কমিশনের অন্যতম কমিশনার মাহাবুব তালুকদারের মত অনেক বর্ণচোরা আছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। এরাই অজ্ঞাত আকর্ষণে ভবিষ্যতে ২০ দলীয় বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে কাজ করবে সরকারের ভিতরে থেকে। তাই চোখ কান খোলা সতর্ক দৃষ্টি না রাখলে এইসব সুবিধাবাদীদের বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডে সরকার হবে বিব্রত। এক মন দুধ নষ্ট করতে যেমন এক ছটাক তেঁতুলই যথেষ্ট ঠিক তেমনি, বিক্ষিপ্ত কিছু অপকর্ম সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যথেষ্ট হয়ে দাঁড়াবে। ঘাপটি মেরে থাকা সরকার বিরোধীরা সেটাকে পুঁজি করেই নামবে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে। যদি না ততো দিনে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের মত গভীর সমুদ্র বন্দরের দেশ কিংবা মালোয়াশিয়া বা তার চেয়ে উন্নত কোন একটি দেশ হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............