‘জ্বিনের আগুন’ নেভাতে এসে হুজুরের পাঞ্জাবিতে আগুন, ফায়ার সার্ভিসে রক্ষা

‘জ্বিনের আগুন’ নেভাতে এসে হুজুরের পাঞ্জাবিতে আগুন, ফায়ার সার্ভিসে রক্ষা

অনলাইন ডেস্ক : তিন দিন আগে মোঃ ইউনুসের স্ত্রী রাবেয়া বসরীর দেড় বছরের মেয়ে সুরাইয়া পানিতে পড়ে যায়। পরে জীবন্ত উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। তার জামা কাপড়গুলো পাওয়া যায় আম গাছের ওপরে। শুধু কি তাই? রাবেয়া বসরীর ঘরের বিভিন্ন কোনায় ক’দিন পরপরই হঠাৎ জ্বলে ওঠে আগুন।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার নিলক্ষীর গ্রামের রাবেয়া বসরীর পরিবার এটাকে নির্ঘাৎ জ্বিনের কাণ্ড-কারখানা ভেবে বসেন। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। জ্বিনের আসর তাড়াতে ডেকে আনলেন ফুলগাজী আশ্রাফিয়া মাদ্রাসার এক হুজুরকে। তারপরের ঘটনা আরো চমকপ্রদ।

রাবেয়া বসরী দাবি করেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখেন তারা। পুরো ব্যাপারটাকে জ্বিনের কাণ্ড ভেবেই ফুলগাজী আশ্রাফিয়া মাদ্রাসার হুজুরকে ডেকে আনেন পানি পড়া দিতে।

পানি পড়ার সময় ঘরের কোনায় খড়ের কাঠিতে জ্বলা আগুন দপ করে জ্বলে ওঠে হুজুরের জামার পেছনে। আর যায় কোথায়! কে কাকে পানি পড়া দেবে! বাঁচার জন্য শুরু হয় সেই হুজুরের দৌড়াদৌড়ি। আর এর ফাঁকে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে খড়ের গাদায়।

এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিস। এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে খড়ের গাদার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম, ফুলগাজী থানার সেকেন্ড অফিসার আনবিক চাকমা, এএসআই নুরুল হুদা, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম ও ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মিয়াজি।

সিনিয়র ফায়ার ম্যান বেলাল হোসেন জানান, আমরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে খড়ের মাঝে অসাবধানতাবশত আগুন লাগতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............