ট্রিপল সেঞ্চুরি? সেটাও সম্ভব!

0
122
ট্রিপল সেঞ্চুরি? সেটাও সম্ভব!
সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক : এ নিয়ে টেস্টে চারটি ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে গেল বাংলাদেশের। মুশফিক একাই করলেন দুটি। বাকি দুই ডাবল সেঞ্চুরি সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের। এবার ট্রিপল সেঞ্চুরি দেখার পালা

টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি? অবশ্যই কঠিনতম কাজগুলোর একটি। ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র ২৬ ব্যাটসম্যানের এই কীর্তি আছে। এঁদের মধ্যে চারজন আবার দুটি করে ত্রিশতক হাঁকিয়েছেন। বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি ব্যাপারটাই একসময় দূরের বাতিঘর ছিল, ডাবল সেঞ্চুরি তো ছিল অন্য ছায়াপথের বিন্দু তারা। সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। মুশফিক মনে করেন, বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের পক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরিও খুব সম্ভব।

এই কথা মুশফিক এমন সময়ে বলতে পারছেন, যখন টানা আট ইনিংসে পুরো বাংলাদেশ দল মিলিয়ে ২০০ পেরোনো ইনিংস না-থাকার হাহাকার উঠেছিল। মুশফিক মিরপুর টেস্টের এই বড় ইনিংসের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, একটা পরিবর্তন বাকি সবকিছুই বদলে দেয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এখন ওয়ানডেতেও ১০০ পেলেই তৃপ্ত হন না, সেটি ১৪০-১৫০-এ নিয়ে যেতে চান। টেস্টেও এখন এই মানসিকতা আসছে। সবার আসছে, এমন নয়। তবে পরিবর্তনটা এক-দুজনের হাত ধরেই সম্ভব।

আর এ ব্যাপারে যদি নেতৃত্ব দেন দেশের সেরা ব্যাটসম্যানটি, তাহলে তো কথাই নেই। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি বাংলাদেশ দেখেছিল তাঁর ব্যাটেই। টেস্ট ইতিহাসেরই প্রথম উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তি গড়লেন আজ। বাংলাদেশের পক্ষে রান, বল ও মিনিটের হিসাবে সবচেয়ে লম্বা ইনিংস খেলার পর মুশফিকের কাছেই অনেকটা দাবির সুরে একজন জানতে চাইলেন, ট্রিপল সেঞ্চুরি তাহলে কবে হচ্ছে? মুশফিক আশাহত করলেন না, ‘আমি আমার নিজের ভেতর এটা বিশ্বাস করি। প্রথমে যখন ২০০ করেছি, তখন মনে হয় নাই এটা প্রথম বা আবার কবে মারব। নিজের ওপর ও রকম বিশ্বাস ছিল না। এখন এটা পাওয়ার পর আমার বিশ্বাস একটু হলেও ফিরে এসেছে, এ রকম আরও বড় অবদান রাখতে পারব। আমার মনে হয় আমাদের টপ–অর্ডারদের কারও জন্য এটা অসম্ভব না।’

আরেকজনের নাম বললেন মুশফিক, যাঁর ব্যাটে বাংলাদেশ ট্র্রিপল সেঞ্চুরি দেখে ফেলতে পারে। টেস্টে সাত সেঞ্চুরির তিনটই যাঁর ১৫০ পেরোনো। মুশফিক মনে করেন, মুমিনুল একবার ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেই তিন শও পেয়ে যাবেন এক সময়, ‘মুমিনুলের তো মনে হয় এই ইনিংস তাড়াতাড়ি আসবে, যখন এই ম্যাজিক ফিগার (ডাবল) পেয়ে যাবে, তখন সে আরও বড় কিছু করতে পারবে।’

এই মানসিকতার পরিবর্তন মুশফিক আরও অনেকের মধ্যে দেখেন। নিজের কথাই বলতে পারতেন। মুশফিকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রানের দিক দিয়ে সেরা আট ইনিংসের পাঁচটিই ২০১৭ আর ২০১৮ সালে । গত সেপ্টেম্বরেই এশিয়া কাপে ওয়ানডের ক্যারিয়ার–সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। আজ খেললেন টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষেই সেরা ইনিংসটি। মুশফিক বলছেন, ‘টেস্টে ত্রিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশের ইনিংস খেলে জেতা যায় না। অন্তত এক শ, দেড় শ বা দুই শ লাগে। আমাদের মধ্যে বড় ইনিংস খেলার প্রবণতা শুরু হচ্ছে। আমাদের শেষ কয়েকটা ওয়ানডে ইনিংস দেখেন, আমরা বড় ইনিংস করার চেষ্টা করছি। অন্তত ১৪০ পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করছে সবাই। এটা ভালো একটা লক্ষণ।’

দুটি ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন এমন দুই ম্যাচে, কাকতালীয়ভাবে যখন দলে সাকিব ও তামিম দুজনই ছিলেন না। আজ তো সাকিবের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটা ভেঙে দিয়েছেন, একসময় যে রেকর্ডটা তাঁরই ছিল। সেটি আবার ভেঙেছিলেন তামিম। তামিমের রেকর্ডটা ভাঙেন সাকিব।

মুশফিক মনে করেন, সাকিব নিজেও আবার তা ফিরে পেতে চাইবেন। তামিমও পিছিয়ে থাকতে চাইবেন না। নিজেদের মধ্যে এই সুস্থ প্রতিযোগিতাই পারে বাংলাদেশকে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ এনে দিতে, ‘দুটি ডাবল সেঞ্চুরিই আমার জন্য স্পেশাল। আর আমাদের কেবল তামিম, সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। এখন আমাদের একটা ধারা এসে গেছে যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারে। অবশ্যই মনের মধ্যে কোথাও এটা থাকে যে আমি আমার জায়গাটা (সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড একসময় তাঁর ছিল) আবার ফিরে পাব। আমি মনে করি এটা সুস্থ প্রতিযোগিতা। এটা খেলোয়াড়দের মাঝে সব সময় থাকা খুবই জরুরি। কারণে এতে দলের সুবিধা হয়। সেদিক থেকে অবশ্যই ভালো লেগেছে আবার রেকর্ডটা নিজের করে নিতে পেরে।’

শব্দপাতা ডট কম/তুষার অপু

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............