ঢাকায় বিএনপি-জামায়াতের ১৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, রিমান্ডে ৭

অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ১৭ জন নেতা-কর্মীকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার এসব আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ ও আদালত সূত্র বলছে, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার আদালত ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে বনানী থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় মিজানুর রহমান নামের এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে আদালতে তুলে ১০ দিন রিমান্ডে নিতে চাইলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বনানীর মহাখালী আমতলীর সিকো এন্টারপ্রাইজের সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য রাস্তায় ত্রাস সৃষ্টি করে গাড়ি ভাঙচুর করে। সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছেন আসামি মিজানুর রহমান।

ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় গত সেপ্টেম্বর মাসে করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই দুজন হলেন- দুলাল মিয়া ও আলমগীর হোসেন লিটন ওরফে চশমা লিটন। পুলিশ এ দুজনকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানার মোল্লাপাড়া এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় আসামিরা। এই ঘটনার সঙ্গে আসামিরা জড়িত। পুলিশ বলছে, দুলালের বিরুদ্ধে নাশকতার আরও ৫টি মামলা আছে। আর আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা আছে ছয়টি।

পল্টন থানার নাশকতার মামলায় রোমান আহম্মেদ ও আজাদ হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ দুজনকে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ১৪ নভেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে আসামিরা জড়িত। তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির রিজভী, আফরোজা আব্বাস, নবীউল্লাহ নবী, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও কফিল উদ্দিন নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করাসহ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে, লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এ ঘটনার সঙ্গে আসামিরা জড়িত। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম।

রোমান আহম্মেদের বাবা ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁর ছেলে কবি নজরুল কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। চার দিন আগে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সূত্রাপুর এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় রোমানকে। এরপর ছেলের খোঁজ পাচ্ছিলেন না তিনি। আসামি আজাদ হোসেনের ভাই মামুন বলেন, তাঁর ভাই কবি নজরুল কলেজে পড়েন।

এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে করা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় নিউমার্কেট থানা বিএনপির সহসভাপতি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাঁকে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

খিলক্ষেত থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামায়াতের নেতা ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া বাড্ডা, ভাটারা, লালবাগ, মিরপুর, উত্তরা পূর্ব, তুরাগ, শাহবাগ এবং হাজারীবাগ এলাকা থেকে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শব্দপাতা ডট কম/তুষার অপু/28-11-2018

আপনার মন্তব্য লিখুন............