দুই বিয়ে, দুই স্বামীরই রহস্যজনক মৃত্যু

0
72

শব্দপাতা ডেস্ক : কলকাতার খড়দহের প্রৌঢ় প্রতুল চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় আপাতত মূল অভিযুক্ত মৃতের স্ত্রী অদিতি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একের পরে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এখনো অনেক তথ্য চেপে যাচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অদিতি।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে ২০০০ সালে প্রথমে কলকাতা বিমানবন্দরেরই এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জয়দীপ বিশ্বাসের সাথে বিয়ে হয় অদিতির। বারাসতে জয়দীপের সঙ্গে থাকতেন অদিতি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় জয়দীপের মায়ের। সেই সময়ে অদিতির দাবি ছিল, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে মারা যান তার শ্বাশুড়ি। এর পরের দু-তিন বছরে বারাসতের ওই বাড়িতেই জয়দীপের আরো দুই আত্মীয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ২০০৪ সালে একই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অদিতির স্বামী জয়দীপের নিথর দেহ। তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে অদিতির যোগাযোগ কতটা, তা আবারো খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ।
জয়দীপের মৃত্যুর পরে তার পরিবার পুলিশে অভিযোগও দায়ের করে। অদিতি এবং তার বাপের বাড়ির লোককে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। যদিও, প্রথম পক্ষের স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ছাড় পেয়ে যায় অদিতি। জয়দীপ-অদিতির একটি পুত্রসন্তানও ছিল।

জয়দীপের মৃত্যুর পরে তার চাকরিটিও পায় অদিতি। কয়েক বছরের মধ্যে বারাসতে জয়দীপের বাড়ি বিক্রি করে দেয় সে। জয়দীপের বিমার প্রচুর টাকাও পায় অদিতি। কাশীপুরে ফ্ল্যাট কিনে ছেলেকে নিয়ে থাকতে শুরু করে সে।

এসময় প্রতুলের সঙ্গে আলাপের পরে তাকে বিয়ে করে অদিতি। অদিতি এবং প্রতুলের এক মেয়েও রয়েছে। তবে শেষ কয়েক বছরে আর্থিক সমস্যায় পড়েন প্রতুল। ফলে প্রচুর ধার হয়ে যায় তার। ধার শোধ করতে অদিতির কাছেই বার বার টাকা দাবি করতেন প্রতুল। পাওনাদাররাও বাড়িতে এসে চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত প্রতুলকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় অদিতি। সূত্রের খবর, গত মে মাসে অদিতি এবং প্রতুলের ডিভোর্স হয়।

এরপর থেকেই আবারো বিয়ের পরিকল্পনা করে অদিতি। এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও হয়। তা জানতে পেরে বাগড়া দেন প্রতুল। অদিতির হবু স্বামীর কাছে তিনি দাবি করেন, তার এবং অদিতির ডিভোর্স হয়নি। এতেই রেগে যায় অদিতি।

জেরায় অদিতি পুলিশকে জানিয়েছে, ডিভোর্সের পরে তাকে টাকা দেয়ার কথা ছিল প্রতুলের। কিন্তু বার বারই বিভিন্ন জায়গায় টাকা দেওয়ার নাম করে ডেকে তাকে হেনস্তা করতেন প্রতুল, অভিযোগ অদিতির। ঘটনার দিনও প্রতুলের খড়দহের ফ্ল্যাটে টাকা চাইতে যায় অদিতি। দু’জনে মদ্যপানও করে। টাকা নিয়ে বচসা শুরু হওয়ার পরে তা ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। তারপরেই মৃত্যু হয় প্রতুলের। কীভাবে অদিতি প্রতুলকে খুন করেছিল, তা জানতে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করে পুলিশ। তার পরেও অবশ্য গোটা ঘটনা স্পষ্ট হয়নি তদন্তকারীদের কাছে। কারণ, এখনো পুলিশকে অদিতি বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। পুলিশের আরো অনুমান, এই ঘটনায় অদিতির সঙ্গে আরো কেউ জড়িয়ে থাকতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............