দোয়ারাবাজার উপজেলার অদম্য মেধাবী আকলিমা উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কিত

0
423
দোয়ারাবাজার উপজেলার অদম্য মেধাবী আকলিমা উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কিত
আকলিমা আক্তার পপি

এনামুল কবির (মুন্না) :: দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি অদম্য মেধাবী আকলিমা আক্তার পপির সাফল্যকে। সে দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা রোছমত আলী-রামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ হতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের ইদুকোনা গ্রামের আকলিমা আক্তার পপি ভূমিহীন পান দোকানী পিতা শাহ আলম অভাবী সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

মা জয়নব বিবি অন্যের বাড়ীতে জিইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভাবী সংসারে জীবিকা নির্বাহ করতে তার পিতা সিলেট রেল ষ্টেশন রোডে পান দোকান দিয়েছেন। আকলিমা আক্তার পপি দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় জন্মের পর থেকেই সংসারে শুধু অভাব-অনটনই দেখেছে। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তার বেড়ে ওঠা। খেয়ে না খেয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। পপি’র কোন গৃহশিক্ষক ছিল না। বই না থাকায় সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে লেখাপড়া করেছে। পরীক্ষার আগে বইয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফটোকপি করে লেখাপড়া চালাতে হয়েছে তার। তার ভয় পিতা-মাতার আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে বন্ধ হয়ে যাবে তার লেখাপড়া। তার অদম্য ইচ্ছা সে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবে।

অন্তহীন সমস্যা নিয়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করে জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়েছে সে। যেখানে উপজেলার সব ক’টি কলেজের মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়ে সকলের শীর্ষে রয়েছে সেখানে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এথখন সে শঙ্কিত। প্রতিষ্ঠানের একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়ে সকলের মুখ উজ্জল করেছে পপি। সে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতা তার স্বপ্ন পূরণে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থের অভাবে তার উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভবিষ্যতে তার লেখাপড়ার কি হবে তা ভেবে তাঁরা শংকিত। তারা গরীব ও মেধাবী ছাত্রী আকলিমা আক্তার পপি’র পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............