ধামরাইয়ে গার্মেন্টসে মধ্যাহ্নের খাবারে ২শ অসুস্থ

0
53

অনলাইন ডেস্কঃ 


রোববার কচমচ এলাকায় ‘স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। ওই কারখানার ৮ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

দুপুরে খাবার খাওয়ার পর শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউরিয়া গ্যাসের গন্ধে কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, হাসপাতালে পাঠানো হলেও তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অসুস্থ শ্রমিকদের সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অসুস্থদের কয়েকজন হলেন- সোহেল, রাসেল, বাদল, শিউলী, সুমি, তাসলিমা, শিউলি বেগম, আঁচল, ইসমত আরা, নুরজাহান বেগম, লাবনী, বিলকিছ, রিয়া আক্তার, রাসেদা, লাকী বেগম, রেজিনা, পারুল, রেহেনা, ইতি, শেরিকা, শাহনাজ খাতুন, শান্তা, কনিকা, রিতা, চায়না, মনিকা।

তারা বলেন, দুপুরে ভাত, মুরগির মাংস, ডাল খাওয়ার পর একজন একজন করে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। কেউ মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে যায়, আবার কেউ বমি করে।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা সাংবাদিকদের বলেন, “দুপুরের খাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে।”

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সাহেব আলী বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে ইসলামপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পকিল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলুল হক বলেন, বিকাল পৌনে ৫টার দিকে এ হাসপাতালে ৫৪ জন অসুস্থ শ্রমিক আসে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যায়।

“১৪ জনের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের রেফার্ড করে অন্যত্র নিয়ে যায়। সর্বশেষ চার জন ভর্তি ছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন সেই চারজনকেও নিয়ে যায়।”

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কিছু বলা যাবে না,” বলেন এই চিকিৎসক।

বিষয়টি নিয়ে স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেডের সহকারী পরিচালক জয়দুল হোসেন বলেন, দুপুরে খাবার খেয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ করে তিন তলার সি ফ্লোরের বেশ কিছু নারী শ্রমিক বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

পরে স্নোটেক্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, খাবারে বিষষ্ক্রিয়া নয়, কারখানার ফায়ার এসেম্বলি মাঠে ঘাস বৃদ্ধির জন্য ছিটানো ইউরিয়া সারই এর কারণ।

কারখানার জনসংযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়, “মাঠে ৩২ কেজি ইউরিয়া সার ছিটানো হয়েছিল। মাঠে বৃষ্টির পানি থাকায় ইউরিয়া গলে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ কারখানার ফ্লোরে প্রবেশ করে। ফলে কর্মরত কিছু শ্রমিক অস্বস্তি অনুভব করে।”

বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব শ্রমিককে পাঠানো হয়েছিল, তাদের সবাই প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে স্নোটেক্স কর্তৃপক্ষ।

শব্দপাতা ডট কম/তুষার অপু

আপনার মন্তব্য লিখুন............

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here