নন্দিত শ্রমিক নেতা পলাশের আজ ৪৮তম জন্মদিন

0
111
নন্দিত শ্রমিক নেতা পলাশের আজ ৪৮তম জন্মদিন

শব্দপাতা ডেস্ক : পলাশ ডাকা কোকিল ডাকা আমার এই এ দেশ ভাইরে, ধানের মাঝে ঢেউ খেলানো এমন কোথাও নাইরে…। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের বুকে জন্ম নিয়ে আমরা গর্বিত। আর গর্বের বিষয়টা আরো বেড়ে যায় যখন অনুভব করি, জসিম উদ্দিন, কায়কোবাদ, জীবনান্দ দাশ, শরৎচন্দ্র, আল-মাহমুদ, আসাদ চৌধুরী, শামসুর রহমান, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, আবু হাসান শাহরিয়ার, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মত বিখ্যাত মনীষীদের জন্ম এ বাংলা মায়ের কোলে। তারা এই বাংলা মায়ের কোলে জন্ম নিয়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আমাদের এই বাংলাদেশকে। তারা সবসময় এদেশের মানুষের কাছে স্বরনীয় বরনীয় হয়ে থাকবেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিরন্তর।

পলাশ একটি ফুল, যে ফুল সুবাস ছড়ায়। যে ফুলের সুবাসে মানুষ বিমোহিত হয়। যার আভায় আলোকিত হয়ে ওঠে মানুষের মন। নিরন্ন, অসহায় অধিকার বঞ্চিত শ্রমজিবী মানুষেরা পলাশ নামটির মধ্যে খুঁজে পায় নিরাপদ আশ্রয়। আলীগঞ্জ ছোট্ট একটি গ্রাম। আর এ গ্রামেই জন্ম নেন বাবা ইদ্রিস আলী মেম্বারের ঘরে জীবন্ত কিংবদন্তী আলহাজ্ব কাউছার আহমাদ পলাশ। বাবা যেমন জীবদ্দশায় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করা, শিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বেলে দেওয়ার মন মানুষিকতা, সমাজের উন্নয়নে কাজ করা সব কিছুই পলাশ দেখেছেন বাবার পাশে পাশে থেকে। বাবার পদাংক অনুসরণ করে পলাশ ও এগিয়ে এসেছেন মানুষের কল্যানে নিজেকে সঁপে দিতে। পলাশ, আজ শুধু তার নিজ গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে জেলা, জেলা থেকে সমগ্র দেশের মানুষের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। টেকনাফ থেকে তেুঁতুলিয়া রূপসা থেকে পাথুরিয়া সমগ্র দেশের, অসহায় মানুষ যখন জীবন জীবিকার তাগিদে শহরে ছুটে আসে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোগার করতে গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ন্যায্য অধিকার থেকে যখন বঞ্চিত হয়, তখন সে সকল অধিকার বঞ্চিত নিরন্ন অসহায় মানুষগুলোর কাছে পলাশ হয়ে ওঠেন নির্ভরতার প্রতীক। নিরাপদ ঠিকানা। যার ছায়ায় এবং মায়ায় নিরন্ন অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন আর বাসস্থানের নিশ্চয়তা পায়।

বন্ধুরা এতক্ষনে অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন। আমার আজকের লেখা কাকে নিয়ে? হ্যাঁ তিনি হচ্ছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের প্রাণের স্পন্দন, নন্দিত শ্রমিক নেতা শান্তির দূত আলহাজ্ব কাউছার আহমাদ পলাশ। আজ তার ৪৮ তম জন্মদিন। আজ তার জন্মদিনে আমার এ লেখাটি তাকে নিবেদন করলাম। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের আলীগঞ্জে ইদ্রিস আলী মেম্বার ও মা হাজেরা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন পলাশ। ৩ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে তিনি ২য় এবং ভাইদের মধ্যে তিনি বড়।

পলাশ যে ফুলের সুবাস এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। কোথায় নেই পলাশ? মায়ানমার থেকে বিতারিত নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গা, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ক্রীড়াঙ্গন সর্বক্ষেত্রেই রয়েছে সেবা ও তার ছান্দসিক পদচারণা। পলাশ ছুটে চলেছেন, সুকান্তের রানারের মত দূর্বারগতিতে। তার এ পথ চলা মানবতার কল্যাণের জন্য। পলাশ তার সহযোদ্ধাদের সব সময়ই বলেন, তোমরা মনে রেখো ‘যে জীবন মানুষের কল্যাণে আসে না সে জীবনের কোনো মূল্য নেই’। এ বানীকে বুকে ধারণ করে মানবতার কল্যাণে শান্তির দূত হয়ে আলহাজ্ব কাউছার আহমাদ পলাশ এগিয়ে যাচ্ছেন, তিনি তার সততা, আদর্শ থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি। মিথ্যের সঙ্গে আপোষ করেননি। সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে অনেক লড়াই সংগ্রামে অবর্তীন হয়েছেন তিনি। আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান হয়ে অন্ধকারে আলোক রশ্মি জ্বালিয়েছেন। বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে অন্যায়কে পদদলিত করেছেন । সন্ত্রাস নয় সাহস থাকলে আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা কর। এই নীতিতে আজো তিনি অটল রয়েছেন। তাইতো তিনি প্রতিটি মানুষের নিকট নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

যে গানের কলি দিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম সে কলি দিয়েই লেখা শেষ করতে চাই। পলাশ ডাকা কোকিল ডাকা আমার এই এ দেশ ভাইরে, ধানের মাঝে ঢেউ খেলানো এমন কোথাও নাইরে….। এ গানের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রান, শান্তির দূত পলাশ এর বিকল্প নাইরে…। জয়তু পলাশ, জয়তু। জন্মদিনে তোমার প্রতি রইলো আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এগিয়ে যাও দৃঢ় প্রত্যয়ে। শুভ হোক তোমার পথচলা এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............