নামাজের জন্য অলিম্পিকে ‘ভ্রাম্যমাণ মসজিদের’ ব্যবস্থা করবে জাপান!

নামাজের জন্য অলিম্পিকে ‘ভ্রাম্যমাণ মসজিদের’ ব্যবস্থা করবে জাপান!
ছবি সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক : জাপানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ স্থায়ী মসজিদ রয়েছে। তবে ‘ভ্রাম্যমাণ মসজিদ’ এই প্রথম। ২০২০ সালে অলিম্পিক হচ্ছে জাপানে, এই বিরাট আনন্দযজ্ঞকে সামনে রেখে ‘ভ্রাম্যমাণ মসজিদ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে জাপান সরকার। বৈশ্বিক এই ইভেন্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে একটি ‘ভ্রাম্যমাণ মসজিদ’ও তৈরি করে ফেলেছেন তারা।

ধাপে ধাপে এমন আরও অনেক মসজিদ তৈরি করা হবে। জাপান সরকার চান না, অলিম্পিককে সামনে রেখে নামাজ পড়তে চাইলে কোনো মুসলমান মসজিদ সংকটে পড়ুক। এই ভ্রাম্যমাণ মসজিদ বানাতে সময় লেগেছে চার বছর।

২৫ টনের একটি ট্রাককে মডিফাই করে সেটিতে নামাজের জন্য ৪৮ স্কয়ার মিটার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। ওই জায়গায় একসঙ্গে ৫০ জন নামাজ পড়ার পাশাপাশি ভেতরে ওজুর জন্য পানির ব্যবস্থা রয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ মসজিদ আইডিয়ার জনক টোকিওর বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী ইয়াসুহারু ইনোইউয়ে। এর আগে ২০০৪ সালে এথেন্সে ২০০৪ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকসে ফুটবাথ তৈরি করেছিলেন তিনি। কাতারে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ বানানোর এই আইডিয়া ইনোইউয়ের মাথায় আসে।

মসজিদটি দেখতে অনেকটা ট্রাকের মতো কিন্তু পাশ থেকে এটি দ্বিগুণ চওড়া আকার ধারণ করতে পারে। মুসল্লিদের ওঠার জন্য আছে চমৎকার সিঁড়ি। ওজু কিংবা হাত-মুখ ধোয়ার জন্য আছে ট্যাপ, ওয়াশরুম।

অলিম্পিকের সময় মাঠের আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে মসজিদগুলো, যেন দর্শকদের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনে খেলোয়াড়রাও চাইলে নামাজ পড়ে নিতে পারে। সুইচ টিপলেই ধীরে ধীরে খুলে যাবে ২৫ টন ভার বহনে সক্ষম এই ট্রাকের দরজা।

চালক একাই পরিচালনা করতে পারবেন গাড়িটি। বাইরে থেকে দেখে খুবই সাধারণ মনে হলেও নামাজের সময় খুলে যাবে ট্রাকের দুই পাশ। ফলে বাড়বে ধারণক্ষমতাও। তখন অনায়াসে ৫০ জন একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এশীয় অঞ্চলে ১৯৬৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ২০২০ সালে অলিম্পিক আয়োজন করতে যাচ্ছে জাপান। এ আয়োজনে কোনো বিভাগেই যেন ঘাটতি না থাকে সেদিকে লক্ষ রেখেই মুসলমানদের জন্য এই ভ্রাম্যমাণ মসজিদের আয়োজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন............