নারায়ণগঞ্জে ফিটনেসবিহীন গাড়ি দিয়ে চলছে গণপরিবহন

0
14
নারায়ণগঞ্জে ফিটনেসবিহীন গাড়ি দিয়ে চলছে গণপরিবহন

রনজিৎ মোদক : ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ির এ যেন এক নতুন মেলা। গাড়ি চালনোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমন আইন থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা করছে না ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন গণপরিবহনের চালকেরা। এর ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনায় ঘটছে প্রানহানি। আর এ ব্যাপারে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগও কোনো নজরদারি করছেন না। যার ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত গাড়ি চালকেরা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি দিয়ে চলছে গণপরিবহন, চরম ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা, চিটাগাং রোড (শিমরাইল) পর্যন্ত বেশক’টি পরিবহন চলাচল করে। এরমধ্যে, বন্ধন, উৎসব, হিমাচল, আনন্দ, বোরাক, আল্লাহ ভরসা, শীতলক্ষ্যা ও দুরন্ত। এসব গাড়ির অধিকাংশেরই নেই ফিটনেস। চালকদের নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। যাদের লাইসেন্স আছে, তারাও ঠিক প্রশিক্ষিত নন। এদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাও লক্ষণীয়। সরকার মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ আইন করে। কিন্তু তা মানছে না কেউই। যার ফলে নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে এই আইনটি না মানার প্রবণতা বেশি দুরন্ত, আনন্দ, বোরাক ও শীতলক্ষ্যা পরিবহনের চালকদের মধ্যে।

সূত্র বলছে, গাড়ি চালানোর সময় হরহামেশাই মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকেন এসব পরিবহনের চালকেরা। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। ট্রাফিক বিভাগও এসব ব্যাপারে নজরদারি করছে না। কথিত আছে, ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ স্ট্যান্ড করার কারণে দুরন্ত, শীতলক্ষ্যা, আনন্দ ও বোরাক পরিবহন নিয়মিতই মাসোয়ারা দিয়ে থাকে ট্রাফিক বিভাগকে। যার জন্য তারা এসব দিকে কোনো ভ্রক্ষেপই করেন না।

যাত্রীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, চাষাড়া হতে শিমরাইল পর্যন্ত চলাচলরত দুরন্ত পরিবহন ও পঞ্চবটি হতে ঢাকাগামী আনন্দ ও বোরাক পরিবহনের প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকেরই কোনো লাইসেন্স নেই। এছাড়াও অধিকাংশ গাড়িগুলোর ফিটনেস নেই। তারমধ্যে বেশিরভাগ চালকই মাদকাসক্ত। মাদক সেবন করেই এরা গাড়ি চালাচ্ছে। যার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা।

শুধু তাই নয়, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা নিষিদ্ধ থাকলেও তারা সে আইন মানছে না। একহাতে ড্রাইভিং হুইল ধরে আরেক হাতে মোবাইল ফোন কানে ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। যাত্রীরা এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো যাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণে লিপ্ত হচ্ছে চালকেরা। পাশাপাশি চালকেরা নিজস্ব বন্ধুবান্ধব নিজেদের পাশে বসিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে করতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। যার জন্য দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে যাত্রী সাধারণ। এদিকে একযাত্রী এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে জনৈক চালক দাম্ভিকতা নিয়ে বলে, ‘ভাই ড্রাইভিং করতে গেলে কেউ যদি মারা যায় ৩০ হাজার টাকা দিলেই ছুটে আসা যায়, না হয় এর বেশি হলে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাগবে। এর থেকে বেশি কি আর হবে? ফাঁসি তো হবে না?’ ভূক্তভোগী মহলের দাবী এব্যাপারে সংশ্লিংষ্ট বিভাগের আশু দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

লেখক : রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............