পাকশীতে জনবসতি উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

পাকশীতে জনবসতি উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : শত বছরের পুরানো জনপদ পাকশীতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেলওয়ের জমিসহ অফিস হারনোর আতঙ্কে রয়েছে ওই এলাকার মানুষ। পাকশী রেলওয়ে বাজার, হাসপাতালের সামনের এলাকাসহ প্রায় এক লাখ জনগণ অধ্যূষিত পাকশীর বিস্তৃর্ণ এলাকা রুপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় এ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাচীন জনপদ পাকশীর সব মানুষ এখন তাদের আবাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল হারনোর ভয়ে উদ্বিগ্ন সময় কাটাচ্ছে।

পাকশীতে জনবসতি উচ্ছেদের প্রতিবাদে আমরা পাকশীবাসির পক্ষে আজ বৃহস্প্রতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত পাকশী আমতলা মাঠে মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কয়েক হাজার এলাকাবাসী অংশ নেয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ রশিদুল্লাহর সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পাকশী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, যুগ্ন সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা, পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবু মন্ডল, পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, পাকশী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস পারভেজ, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক রাজিবুল আলম ইভান, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, রেলওয়ে শ্রমিকলীগ সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, মনোয়ারা বেগম, নাদিরা বেগম, তারা বানু, ইয়াসমিন আক্তার ও ফুরিয়া।

বক্তারা বলেন, মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন আপনিতো অসহায় মানুষের সহায়তা দাতা। এঅঞ্চলের মানুষেরা দির্ঘ ১৫০ বছর ধরে পাকশীতে বসবাস করছেন। এখানে দাদা-দাদী, বাবা-মায়ের কবর রয়েছে। আপনি এঅঞ্চলের মানুষ গুলোর দিকে তাকিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও রেলওয়ের বিভাগীয় অফিস চলে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, নিজ বাসভূমে থাকার পরেও আমাদের রোহিঙ্গা বানাবেন না। আমরা যেন বাস্তহারা হয়ে না যাই সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আমরা যদি থাকতে না পারি তাহলে সেই উন্নয়নের দরকার নেই। শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতেও পাকশী ছেড়ে যাবোনা। এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলে এই ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডে বেশির ভাগ জনবসতি থাকবে না এবং দুটি মৌজাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............