ফতুল্লা জুড়ে সরস্বতী পুজার বর্ণাঢ্য আয়োজন

ফতুল্লা জুড়ে সরস্বতী পুজার বর্ণাঢ্য আয়োজন

রণজিৎ মোদক : হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার ও ললিতকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী পূজা আজ রোববার শুরু হয়েছে। ভক্তকূল শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী দেবী সরস্বতীর আহ্বান করবে। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পূজান্ডপ। দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন অগণিত ভক্তবৃন্দ। সরস্বতী দেবী শ্বেতশুভ্র বসনা। দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা। এজন্য তাকে বীণাপানিও বলা হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী তার আশীর্বাদের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করতে প্রতিবছর আবির্ভূত হন ভক্তদের মাঝে। শিক্ষার্থীরাই এই পূজায় মনোযোগী হয়।

শাস্ত্র মতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে দেবীর আরাধনা করা হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে ‘সরস্বতী মহাভোগে বিদ্যে কমললোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ বিদ্যংদেহী নমোস্তুতে’ এই মন্ত্র উচ্চারণ করে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রণতি জানান। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা আজ বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কল্যাণময়ী, ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞানদায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষদায়িনী এবং শক্তির আধার হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরস্বতী দেবীর আরাধনা করেন।

সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মন্দিরগুলেতে পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠানমালায় আছে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি। আজ সকালে শুরু হয়েছে পূজা অর্চনা এবং অঞ্জলী প্রদান। এছাড়াও সকালে হাতে খড়ি এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ফতুল্লার দাপা ঋষিবাড়ি কালীমন্দির, লালপুর কালীমন্দির, বাড়ৈভোগ, পাগলা, হরিহরপাড়া, নয়ামাটিসহ প্রায় ৩০টির বেশি পূজা মন্ডপে মহাসাড়ম্বরে বিদ্যা আরাধনার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............