বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘যৌন নিপীড়নের’ অডিও ভাইরাল

0
65
বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘যৌন নিপীড়নের’ অডিও ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক : গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাস আলী অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যৌন নিপীড়নের কয়েকটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে দ্রুত অপসারণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশিত অডিও রেকর্ড থেকে জানা যায়, ওই শিক্ষক ছুটির দিনসহ বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীকে একান্তভাবে তার বাসায় এবং নিজ বিভাগীয় অফিস কক্ষে এসে দেখা করার জন্য চাপ দেন। এর মধ্যে এক ছাত্রী ঢাকায় অবস্থান করলেও দ্রুত তাকে গোপালগঞ্জে ওই শিক্ষকের বাড়িতে আসতে বলেন। ওই ছাত্রী অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আগে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে কীভাবে আমি একা আপনার সঙ্গে দেখা করব? তখন তিনি (শিক্ষক) তাকে (শিক্ষার্থী) সকালের গাড়িতে করে গোপালগঞ্জ এসে সরাসরি তার বাসায় দেখা করে, রাতে আবার ঢাকায় ফিরে যাবার কথা বলেন।

আরেক অডিওতে জানা যায়, অপর এক ছাত্রী তার অফিসে দেখা করতে চাইলেও ওই শিক্ষক জেলা শহরের নীলারমাঠ এলাকায় তার নবনির্মিত বাড়িতে এসে একান্তভাবে দেখা করার জন্য বলেন।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি ওই শিক্ষকের অফিস রুমে থিসিস দেখাতে গেলে সেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ওই সময় তিনি (শিক্ষার্থী) অফিস কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে বিভাগের গেটে তালা মেরে আটকে রাখা হয়। যা ইতোপূর্বে ওই শিক্ষার্থী তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।

এদিকে, বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক দুই ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার খবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হওয়ায় নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শুরু থেকে তারা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে বাঁচাতে তৎপর ছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের পরও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলের নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আমলে নিতে বাধ্য হন তারা।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী জানান, সিএসই বিভাগের শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রতি ব্যাচকে চতুর্থ বর্ষে থিসিস করতে হয়। সে অনুযায়ী সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আক্কাস আলী আমাদের সুপারভাইজার হন। তার তত্ত্বাবধানে আমরা তিন ছাত্রী মিলে একটি গ্রুপ গঠন করে কাজ শুরু করি। থিসিসের কথা বলে ওই শিক্ষক আমাদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ফেল করিয়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেন। এ অবস্থায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।

ওইসব ঘটনায় দুই ছাত্রী প্রথমে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। পরে শিক্ষকদের পরামর্শে বিভাগীয় প্রধানের যৌন হয়রানির বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মো. আক্কাস আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিভাগের এক শিক্ষক এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন কমিটির সদস্য ও রেজাল্ট প্রোসেসিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আক্কাস আলী। সে সময় রেজাল্ট শিট পরিবর্তন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে আপন ছোট ভাই মো. লিয়াকত মাতুব্বরকে নিজ বিভাগে ভর্তি করান।

শিক্ষক আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ‘যৌন হয়রানির’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, দুই ছাত্রীকে শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

***বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষক আক্কাস আলী যৌন নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ এবং ফোনালাপ ফাঁস***———————————————————————————-মেয়ে দুটো তাদের সাথে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের পূর্ণ বিবরণ দেওয়া সত্ত্বেও যাহারা সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাদেরকে বলছি ভিডিওটি দেখুন এবং যে প্রশ্ন গুলো ছুড়ে দিয়েছি সেগুলো মিলিয়ে নিন আশা করি ভিডিও শেষে বুঝতে বাকি থাকবে না।————————————————————————————–1. আক্কাস আলী মেয়েটাকে এমন কি বলবেন যে মেয়েটাকে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ আসতে হবে……!!! 2. মেয়েটা যখন বলে এত রাত্রে কিভাবে দেখা করব স্যার তার উত্তরে বলেন “হলের সামনে দেখা করতেন” যেখানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধার পর মেয়েদের হলের বাইরে যাওয়া নিষেধ সেখানে একজন শিক্ষক কিভাবে এত রাত্রে হলের সামনে দেখা করতে চান….!!!3. মেয়েটা যখন বলে স্যার আমাকে একা আসতে হবে!!!? আক্কাস আলী উত্তরে বলেন ভয়ের কিছু নাই তুমি ডিপার্টমেন্টে বা বাসায় আসতে পারো, আক্কাস আলী মেয়েটির সাথে এমন কি করেছে যে নির্ভয় দেওয়া লাগছে!!! মেয়েটি আরো বলে তার সাথে যেটা ঘটেছে তার পরেও সে কিভাবে একা দেখা করবে!!! কি ঘটেছে মেয়েটার সাথে সেটা কি বোঝার আর বাকি আছে!!!4. এরপর আক্কাস আলী আরো জোর করতে থাকে যেন মেয়েটি তার বাড়ি নীলা মাঠে যায়,কিন্তু প্রশ্ন কেন একটা মেয়ে একজন শিক্ষকের বাসায় যাবে তাও একাকী!!! এবার কি সবাই কিছু বুঝতে পারছেন!!!5. এরইমধ্যে ফাতেমা ম্যাম ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে মেয়েটিকে বলেন যেন ঘটনাটা আর কাউকে না জানায় এমনকি তার বাবা মাকেও না এবং ব্যাপারটি চেপে যেতে বলে 6. এরপর মেয়ের বাবা যখন অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের কাছে যান তখন ফাতেমা ম্যাডাম আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং বিচার কার্যক্রম 7 দিনের ভিতরে শেষ হবে সে ব্যাপারেও তিনি আশ্বাস দেন ,যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবই জানে কিভাবে প্রশাসন পরবর্তীতে ব্যাপারটা জানে না বলে উড়িয়ে দেয়!!! (এবার কি বুঝেছেন আপনারা আক্কাসের দ্বারা যৌন নির্যাতন হয়েছে ) ————————————————————————————–বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “ধর্ষিতা মেয়ের বাবার নামের জায়গায় আমার নাম লিখে দাও- শেখ মুজিবুর রহমান। আর ঠিকানা লেখ ধানমণ্ডি বত্রিশ…।” সেই বঙ্গবন্ধুর জেলায় গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নামের ধর্ষকের সুষ্ঠ বিচার না হওয়া একার্থে বঙ্গবন্ধু এবং তার আদর্শকে অবমাননার সামিল।একবার ভেবে দেখুন তো, বিচার না পাওয়া অসহায় পিতাটি কি তার মেয়ের মুখের দিকে আর কখনো তাকাতে পারবেন? দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য বাবাটি হয়তো এখনো সৃষ্টিকর্তার দিকেই তাকিয়ে আছেন।———————————————————————-এই ঘটনার পরে আমার বাসা থেকে আমাকে পড়াশুনা বন্ধ করে দেয়ার চাপ দিচ্ছে । এ দায় কার ?আমাদের কি উচিত না এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ?এখন শরীর দেখিয়ে প্রমান করতে হবে যে এই ঘটনা সত্য ?আপনার বোন কে বা আপনার মেয়েকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন না পড়তে ? কার ভরসায় পাঠাবেন ? এই আক্কাস আলীর মত এমন সব শিক্ষকের ভরসায় ? ——————————————————————আসুন, নারী নির্যাতন ও নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। এরকম প্রহসনমূলক বিচারের পরে আর হাত গুঁটিয়ে থাকার অর্থ নেই। আপনি কি চান আপনার বিভাগে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অথবা বাংলাদেশের অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরকম শিক্ষক নামের কুলাঙ্গার, নারী নির্যাতন ও নিপীড়নকারীরা বুক ফুলিয়ে চলুক এবং আমাদের ছোট বোন, সহপাঠী অথবা বড় আপুরা এরকম যৌন নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করুক? আর কোন অসহায় পিতা বিচারের আশায় নির্ঘুম রাত কাটাক? অবশ্যই না। যে যেখানেই থাকুন না কেন, প্রতিবাদ করুন, সোচ্চার হোন, সুষ্ঠ বিচারের ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা করুন, অন্যদেরকে জানান। তরুনেরাই আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তরুনেরা, শিক্ষার্থীরা চাইলে সকল ভালো কাজই এদেশে সম্ভব। এগিয়ে আসুন।

Posted by Mithila Hasan on Saturday, April 6, 2019

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............