মহেশপুর দপ্তরী কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষিত প্রতিবাদে মানববন্ধন

মহেশপুর দপ্তরী কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষিত প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : টাকার বিনিময়ে দলীয় লোকজন নিয়োগ অতপর ছাত্রী ধর্ষন ও মারধরের ঘটনায় ফুসে উঠেছে মহেশপুর উপজেলার কয়েকটি সরকারী প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। মহেশপুর উপজেলা নেপা ইউনিয়নের ৬৪নং সেজিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রহরী কাম দপ্তরী আশিকুজ্জামান বাবু পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষন করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে অভিভাবকরা ধর্ষক আশিকুজ্জামান বাবুর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্কুল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে।

এ সময় স্থানীয় নেপা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর আলীম গাজী, সাবেক মেম্বর মশিয়ার রহমান ও প্রজন্মলীগের নেতা জাহিদ হাসানসহ শতাধীক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৮ জুলাই স্কুল ছুটির পর আশিকুজ্জামান বাবু মাইলবাড়ীয়া ও সেজিয়া গ্রামের ৫ম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা করলে তারা চিৎকার করে পালিয়ে যায়। এর কিছুদিন পর এক ছাত্রীকে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করে দপ্তরী আশিকুজ্জামান বাবু।

ছাত্রী ধর্ষনের পর গত ২১ জুলাই ধর্ষিত ছাত্রীর অভিভাবক স্কুল কমিটির কাছে বিচার দাবী করে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু বিচার না পেয়ে ধর্ষিত ছাত্রীর পিতা দাউদ হোসেন গত ২২ জুলাই এই মামলা করেন। সেজিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আশিকুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা হওয়ায় তিনি এখন প্রলাতক রয়েছে। শনিবার ছাত্রী অভিভাবকরা প্রহরী কাম দপ্তরী বাবুর বহিস্কারের দাবীতে স্কুল চত্বরে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তিনি বিষয়টি মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

অভিভাবকরা প্রতিবাদ সভায় জানান, ধর্ষক বাবুকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা না হলে সন্তানদেরকে আমরা আর সেজিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য পাঠাবো না। এদিকে একই উপজেলার পুরন্দরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ ও শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্কুলের সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দপ্তরীর অত্যাচারে ইতিমধ্যে দুইজন শিক্ষক বদলী হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে দপ্তরী জসিম উদ্দীন স্কুলে এসে বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করান। কথা না শুনলে মারধর করেন। শিক্ষকদের চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকেন। খেয়াল খুশি মতো স্কুলে আসেন। কিছু বল্লে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের শায়েস্তা করার পাল্টা হুমকী দেন।

এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি কাইয়ুম আলী খান ও মহেশপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, দপ্তরী জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য, দুই মাস আগে মহেশপুরের বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুলে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। যোগদান করেই তারা দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে শুরু করেছেন। এতে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকতারা বিপাকে পড়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন............