মায়ের সামনে সহপাঠির নির্মমতায় কিশোরের মৃত্যু

0
30

অনলাইন ডেস্কঃ মা হাজেরা খাতুন সন্ত্রাসীদের হাতে পায়ে ধরে বুকের ধন (সন্তান)কে না মারার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সহপাঠি দুর্বৃত্তের দলটি সেই মায়ের আহাজারিতে কান না দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে কিশোর সন্তানকে। এরপর মায়ের সামনেই হতভাগ্য কিশোরের গায়ে বৈদ্যুতিক তার লাগিয়ে দেয়া হয়। আজ রবিবার সন্ধ্যায় মায়ের সামনেই হতভাগা কিশোরকে তার সহপাঠিরা এরকম পৈশাচিকভাবেই হত্যা করে।

এমন বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কোনারপাড়া নামক গ্রামে। নিহত কিশোর মোহাম্মদ মামুন (১৪) কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা রেস্তোরাঁয় বয় হিসাবে চাকরি করত। রবিবার সকালে তার গ্রামের অন্যান্য সহপাঠিদের নিয়ে তারা ৫ জন পার্শ্ববর্তী জুমছড়ি নামক গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল। গতরাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহত কিশোর মামুনের মা হাজেরা খাতুন জানান, একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক নিয়ে ৫ সহপাঠি ওই গ্রামে বেড়াতে গেলে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে তাদের ইজিবাইকটি আটকিয়ে রাখে গ্রামের লোকজন।

এ সময় কৌশলে গ্রামবাসীর কবল থেকে কিশোর মামুন পালিয়ে নিজ ঘরে এসে যায়। গ্রামবাসী আটক ৪ সহপাঠিকে জানায়- তারা যদি পালিয়ে আসা মামুনকে নিয়ে যায় তাহলে তাদের আটক ইজিবাইকটি ফেরৎ দেবে। এরপর ৪ সহপাঠি যথাক্রমে আব্বাস, নবাব মিয়া, নুরুল হুদা ও ইজিবাইক চালক জাকের ঘটনাস্থল থেকে মামুনকে নিতে আসে। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

চার সহপাঠি মামুনের ঘরে এসে তাকে (মামুন) ধরে আটকিয়ে রাখা ইজিবাইক ছাড়িয়ে আনার জন্য নিতে চায়। কিন্তু মামুন কিছুতেই যেতে রাজি হয় না। এক পর্যায়ে ৪ সহপাঠি মামুনকে ধরে বেদম মারধর করতে থাকে। মামুনকে মারধর করতে করতে এক পর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে সহপাঠি জাকেরের ইজিবাইক গ্যারেজে নিয়ে যায় তারা। ঘর থেকে সন্তান মামুনকে সহপাঠিরা টেনে নিয়ে যাওয়ার পেছনে পেছনে মা হাজেরা খাতুনও আহাজারি করে ছুটতে থাকেন।

সহপাঠিরা কিশোর মামুনকে গ্যারেজে ঢুকিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করতে থাকে। মারের চোটে এ সময় কিশোর মামুনের অবস্থাও কাহিল হয়ে পড়ে। চার সহপাঠির নির্মমতা এখানেই থেমে থাকেনি। মা হাজেরার হাজারো আকুতিতেও গলেনি তাদের মন। এক পর্যায়ে নিষ্ঠুর সহপাঠিরা কিশোর মামুনকে ইজিবাইক গ্যারেজের বৈদ্যুতিক তারে আটকিয়ে দেয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরুদ্দিন পারভেজ কিশোর মামুনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান- ‘আমি ঘটনা শুনেই হাসপাতালে ছুটে এসেছি। ঘটনাটি  অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনায় জড়িতরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।’ এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক লিটন জানান- ‘হাসপাতালের কম্পাউন্ডে উত্তেজনার খবর পেয়ে আমি এখানে আসি। এখানে এসেই দেখি নির্যাতনের শিকার হওয়া কিশোর মামুনের লাশ।’ তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শব্দপাতা ডট কম/তুষার অপু

আপনার মন্তব্য লিখুন............

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here