যে কারণে মনোনয়ন পেলেন না তারানা হালিম

0
79
যে কারণে মনোনয়ন পেলেন না তারানা হালিম
প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনটি পেলেন না প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটু। বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেনও মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন।

টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তবে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মনোনয়ন না পাওয়ায় এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে সরকারের শেষ সময়ে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ভোটের রদবদল বলে মন্তব্য করেন।

মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনে সবচেয়ে চমক হয়ে এসেছে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তারানা হালিমকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। সেসময় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় পড়েন তারানা হালিম।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় নতুন চারজনের শপথ নেয়ার পর দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তারানা হালিমকে করা হয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারানা হালিম সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তবে ওই আসনে দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটু (টাঙ্গাইল-৬)। বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেনও মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন।

২০০৯ সালে তারানা হালিম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি ‘সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তালিকায় নেই অনেক হেভিওয়েট মন্ত্রী-এমপির নাম। বাদের তালিকায় আছেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় (নেত্রকোনা-২), আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক (ঢাকা-১৩), আবদুর রহমান (ফরিদপুর-১), সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (মাদারীপুর-৩) এবং দলটির অপর সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক (শরীয়তপুর-১)।

বাদ পড়েছেন টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও কক্সবাজার-৪ আসনের সমালোচিত এমপি আবদুর রহমান বদি। গাজীপুর-৩ আসনে বাদ পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য রহমত আলী।

এ ছাড়া নাটোর-১ আসনে আবুল কালাম, সিরাজগঞ্জ-৩ গাজী এমএম আমজাদ হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আবদুল মজিদ মণ্ডল, যশোর-২ মনিরুল ইসলাম, মাগুড়া-১ টিএম আবদুল ওহাব, খুলনা-২ মিজানুর রহমান, খুলনা-৬ এসকে নজরুল হক, পটুয়াখালী-৩ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন, পটুয়াখালী-৪ মাহবুবুর রহমান, টাঙ্গাইল-২ খন্দকার আসাদুজ্জামান, টাঙ্গাইল-৬ আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আবুল কালাম আজাদ, নওগাঁ-৫ আবদুল মালেক, নড়াইল-২ এসকে হাফিজুর রহমান, পিরোজপুর-১ একেএমএ আউয়াল, সিলেট-১ আবুল মাল আবদুল মুহিত, জামালপুর-৫ রেজাউল করিম হীরা, কিশোরগঞ্জ-২ সোহরাব উদ্দিন, হবিগঞ্জ-৪ মাহবুব আলী, বাগেরহাট-২ মীর শওকত আলী, নেত্রকোনা-১ ছবি বিশ্বাস, নেত্রকোনা-৩ ইফতেকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, শরীয়তপুর-২ কর্নেল (অব.) শওকত আলী, পাবনা-২ খন্দকার আজিজুল হক আরজু, মাগুরা-১ এটিএম আবদুল ওহাব, কিশোরগঞ্জ-২ সোহরাব উদ্দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............