সবার গ্রহণযোগ্য হলেই ইভিএম ব্যবহার: সিইসি

0
42
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নূরুল হুদা। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু মঙ্গলবার * ত্রুটি প্রমাণ করতে পারলে ইভিএম প্রত্যাহার -ইসি রফিকুল * ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়নি : কবিতা খানম * ইভিএম নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে : ইসি সচিব

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, আইনগত ভিত্তি ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই কেবল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। ভোটারের স্বার্থ রক্ষায় ইভিএম পদ্ধতি যুগোপযোগী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন আগামী মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। এর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। শনিবার খুলনায় নির্বাচন কমিশন আয়োজিত ইভিএম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন স্থানে ইভিএম প্রদর্শনী সম্পর্কে ব্যুরোর পাঠানো খবর :

খুলনা : শহরের জিয়া হল চত্বরে ইভিএম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া, রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহম্মদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ। স্বাগত বক্তৃতা দেন খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী। ইভিএম সম্পর্কিত বিশেষ উপস্থাপনা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

সিইসি নুরুল হুদা আরও বলেন, ভোটের মর্যাদা, ভোট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, ভোট প্রদানের স্থায়ী সমাধান এবং ভোটারের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইভিএম পদ্ধতি যুগোপযোগী। ইভিএম ব্যবহার করা হলে ভোটের রাতে কেন্দ্র ও ব্যালট বাক্স পাহারা দেয়ার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে এ পদ্ধতিতে ব্যালট পেপার ছিনতাই, রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি এবং একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা ইভিএমের বিরোধিতা করছেন, তারা আসলে ইভিএম সম্পর্কে না জেনেই করছেন। ইভিএম সম্পর্কে তাদের ভালো করে জেনে শুনে ধারণা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। তবে ইভিএমের ত্রুটি বা গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনো পরামর্শ দিলে তা সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ইভিএমে অনিয়মের বিষয়ে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যেমন ত্রুটি হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইভিএমেও ত্রুটি হতে পারে। আর সেটি হলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইভিএম জোর করে চাপিয়ে দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনও ইভিএমের আইনগত ভিত্তি হয়নি। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্বাচনের শুরু থেকে নানা অনিয়ম দেখা দেয়। বিশেষ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি এবং একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

উদাহরণ হিসেবে কেসিসির সর্বশেষ নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে উল্লিখিত অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট হলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগই থাকবে না। বরং নির্বাচনী ব্যয় ও লোকবলের তিন ভাগের দু’ভাগের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ৩০ অক্টোবর থেকে কাউন্ট-ডাউন শুরু হবে। এর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। নভেম্বরে জাতির উদ্দেশে তিনি ভাষণ দেবেন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।

জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত দিনে মোতায়েন করা হয়েছে। সেটি মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ বা অন্য কোনো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সিইসির আর আলোচনায় বসার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইভিএম প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন। ইভিএম প্রদর্শনীতে নগরীর দুটি ওয়ার্ডের চারটি এলাকার সাত হাজার ৩৯ জন ভোটারকে ইভিএমে ভোট দেয়ার আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী : ইভিএম কোনো ত্রুটি প্রমাণ করতে পারলে যন্ত্রটি প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাগজের ব্যবহার কমাতে ইভিএম ব্যবহারের এই উদ্যোগ। এর মধ্য দিয়ে ভোট ডাকাতি ও ছিনতাই পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হবে। শনিবার রাজশাহীতে ইভিএম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

ইসি রফিকুল বলেন, দেশের বাস্তবতায় তাদের যান্ত্রিক দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। ইভিএম ব্যবহারে ভোটের ফল যেমন দ্রুত ঘোষণা করা যাবে, তেমনি এই মেশিন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে। একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের কথা চিন্তা করে ইভিএমের ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ভোটাররা এটাকে গ্রহণযোগ্য মনে না করলে ব্যবহার করা হবে না। আপনারা পরীক্ষা করে দেখুন, ইভিএমের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযুক্ত নয়। তাই এটি হ্যাক করা যাবে না। আগে থেকে ভোট দিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা কোনো ত্রুটি প্রমাণ করতে পারলে এটি প্রত্যাহার করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর কবিরের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক নিশারুল আরিফ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ইভিএম প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের চত্বরে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ছয়টি বুথে ইভিএম মেশিনে ডেমো ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।

রংপুর : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম। তিনি বলেন, আরপিও সংশোধন না হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার এখনও অনিশ্চিত। আরপিও সংশোধন ও আইনে পরিণত হলে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। শনিবার রংপুরে ইভিএম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী, রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক দেবদাস ভট্টাচার্য্য, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। ইভিএম ব্যবহার সম্পর্কিত ভিডিও প্রদর্শন ও তথ্য উপস্থাপন করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডিইএ-প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. নুরুজ্জামান খান। ইসি কবিতা খানম আরও বলেন, ভোটগ্রহণে অবিশ্বাসের সংস্কৃতি ও ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত করতেই ইভিএম। এই প্রযুক্তিতে সময় ও অর্থ বাঁচবে। জাল ভোট দেয়ার সুযোগও আর থাকবে না। যাদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে তারাই ইভিএমের বিরোধিতা করছেন।

চট্টগ্রাম : নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ইভিএম নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে। অথচ এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম পাইওনিয়ার বা পথ প্রদর্শক। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথম ইভিএমের যাত্রা শুরু হয়েছিল। নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করতে গেলে অপপ্রচার হয়। ভোটারদের ইভিএম ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে হবে। শনিবার নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ইভিএম প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব বলেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা। অনুষ্ঠানে ইভিএম সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য উপস্থাপন করেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আরও বলেন, নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি হওয়ায় ইভিএম সবার কাছে ভীতিকর মনে হতে পারে। তা দূর করতে হবে। অত্যাধুনিক ভার্সনে ইভিএম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও দখলের কোনো সুযোগ নেই। স্মার্ট কার্ড, ভোটার কার্ড ও ভোটারের উপস্থিতি ছাড়া ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। ইভিএমে ভোট দিতে মাত্র ১৪ সেকেন্ড সময় লাগবে উল্লেখ করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, এটি একটি আধুনিক ভোট দেয়ার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া সবচেয়ে সহজ।

শব্দপাতা ডট কম/তুষার অপু

আপনার মন্তব্য লিখুন............

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here