হেলিকপ্টার ভাড়া পাবেন যেভাবে

হেলিকপ্টার ভাড়া পাবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক : বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষের জীবনেও এসেছে সুবিধা-স্বাচ্ছন্দ্য। অনেক ক্ষেত্রে যানজটের ভোগান্তি এড়াতে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ এখন দ্বারস্থ হচ্ছে প্রাইভেট হেলিকপ্টারের দিকে। জরুরি রোগী আনা-নেওয়া, বিয়ে কিংবা যে কোনো তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে দেশে প্রাইভেট হেলিকপ্টার ব্যবহার বেড়েছে। সেই সঙ্গে এখন সংবাদ সংগ্রহ, নাটক কিংবা সিনেমার শুটিং, রাজনৈতিক নেতাদের সফরেও এ বাহনটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই জিনিসটা বাংলাদেশেও বেসরকারি পর্যায়ে শুরু হয়েছে। তবে এর খরচ এখনও এতটাই বেশি যে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে এটায় ওঠার কথা চিন্তা করাও মুশকিল!

তবে জরুরী অবস্থায়, ব্যবসায়ী কাজে কিংবা দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছে যাবার জন্য হেলিকপ্টার অত্যন্ত কার্যকরী একটা বাহন। যে কোন সমতল জায়গায় নামতে পারে, অত্যন্ত দ্রুতগতির এই যানটার বেসরকারি ব্যবহার আস্তে আস্তে বাড়ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে বেশ কিছু বেসরকারি কোম্পানি হেলিকপ্টার সেবা ভাড়া দিয়ে থাকে। আসুন, এক নজরে তাদের কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

স্কয়ার এয়ার লিমিটেড :
এই কোম্পানিটির ছয়জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন বেল-৪০৭ হেলিকপ্টারের ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর চারজন যাত্রী বহনে সক্ষম রবিনসন আর-৬৬-র ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় ৭৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও হেলিকপ্টারের প্রতি ঘণ্টায় ভূমিতে অপেক্ষমাণ চার্জ ছয় হাজার টাকা। সেই সঙ্গে প্রতি ফ্লাইটে ইনস্যুরেন্স খরচ হিসেবে গুনতে হবে দুই হাজার টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা : স্কয়ার এয়ার লিমিটেড স্কয়ার সেন্টার, ৪৮ মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।

সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইন্স :
এই এয়ারলাইন্সটি সাধারণ কাজের জন্য ঘন্টায় ৫৫ হাজার টাকায় হেলিকপ্টার ভাড়া দিয়ে থাকে। কিন্তু সিনেমার শুটিং, লিফলেট বিতরণসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজের জন্য ভাড়া ৩০ শতাংশ হারে বেশি। ভূমিতে অপেক্ষমাণ চার্জ প্রতি ঘণ্টার জন্য পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া পুরো খরচের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। এই কোম্পানি থেকে চাইলে নূন্যতম ৩০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া নেওয়া যায়। জ্বালানি খরচ, ইনস্যুরেন্সসহ বাকি সব কিছু কোম্পানিই বহন করে থাকে। যোগাযোগের ঠিকানা : সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইন্স লিমিটেড, টাওয়ার হেমলেট, ১৬ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা।

সিকদার গ্রুপ :
সিকদার গ্রুপের তিনটি হেলিকপ্টার রয়েছে। এগুলো হল বেল-৪০৪, আর-৬৬ ও আর-৪৪। সাত সিটের প্রতিটি হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে ভাড়া ঘণ্টায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। তিন সিটের ক্ষেত্রে ভাড়া ঘণ্টায় ৭২ হাজার টাকা। সঙ্গে ভ্যাট ১৫ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। এই কোম্পানির হেলিকপ্টার গুলোতেও প্রতি ঘণ্টায় ভূমিতে অপেক্ষমাণ চার্জ হিসেবে দিতে হবে সাত হাজার টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা : সিকদার গ্রুপ রাজ ভবন, দ্বিতীয় তলা, ২৯ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। ফোন নম্বর : ৯৫৫০২৭১।

ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড :
ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড ৬ আসন বিশিষ্ট ইসি ১৩০বি-৪ হেলিকপ্টার সর্বনিম্ন ১ ঘণ্টার জন্য ভাড়া নেওয়া যাবে। প্রতি ঘণ্টায় ভাড়া গুনতে হবে এক লাখ টাকা। সেই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। ভূমিতে প্রতি ঘণ্টার জন্য এরা চার্জ করে থাকে ৫ হাজার টাকা। যোগাযোগের ঠিকানা : ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড, ৪০ শহীদ তাজউদ্দীন সরণি, তেজগাঁও, ঢাকা।

বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স লিমিটেড :
বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ছয় থেকে সাতজন যাত্রী বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন বেল-৪০৭ হেলিকপ্টারের জন্য ভাড়া গুনতে হবে প্রতি ঘণ্টায় এক লাখ টাকা। আর তিনজন যাত্রী বহনে ক্ষমতা সম্পন্ন রবিনসন আর-৪৪-এর ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার টাকা। এই সব ভাড়ার সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সংযুক্ত করতে হবে। যোগাযোগের ঠিকানা : বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স লিমিটেড, ৬৮/১ গুলশান এভিনিউ, গুলশান-১ ঢাকা।

এসবের বাইরেও আরও কিছু কোম্পানি হেলিকপ্টার ভাড়া দিয়ে থাকে, তবে এই কোম্পানিগুলোই বর্তমানে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভালো সেবা দিয়ে থাকে।

হেলিকপ্টারের বুকিং দেবার সময় আপনাকে কোম্পানিকে জানাতে হবে, আপনি কোথা থেকে কোথায় যেতে চান, কোন রুট বা আকাশপথ আপনি ব্যবহার করবেন। যেহেতু আকাশে উঠলে সবদিকেই যাওয়া সম্ভব, তাই আকাশে ওড়ার সময় অন্য কোন আকাশযানের সমস্যা তৈরি না হয়, তাই অবশ্যই আপনার পথ পরিকল্পনা ও সময়সূচী সিভিল এ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। আপনি কোম্পানিকে জানিয়ে দিলে তারাই সেটা করবে।

এছাড়াও বুকিং দেবার সময় হেলিকপ্টার ফ্লাইট প্লান অনুসারে মোট ভাড়ার ৫০ শতাংশ আগেই পরিশোধ করতে হবে। বাকি টাকা দিতে হবে হেলিকপ্টার আকাশে উড়বার আগে।

আশা করা যায় এই তথ্যগুলো আপনাদের কাজে আসবে কোন না কোন ভাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন............