এই শীতে ঘুরে আসুন কাপ্তাই মনোরম পরিবেশ জাতীয় উদ্যানে

0
267

শব্দপাতা.কম ডেস্ক : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক মনোরম পরিবেশ তথা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গঠিত এ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত। এর সর্বমোট আয়তন ৫৪৬৪.০ হেঃ এখানে বনের প্রকৃতি হল ক্রান্তিময় চিরহরিৎ বন।

অবস্থানঃ চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এ বনের অবস্থান। আর রাঙ্গামাটি শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।

যে কারণে বিখ্যাত বা ঐতিহাসিক পটভূমি বা গুরুত্বের বর্ণনাঃ উপমহাদেশের যে কটি প্রাচীন উদ্যান আছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। হ্রদ, পাহাড়, নদী, খাল, ঝরনা ছাড়াও এ উদ্যানের মূল আকর্ষণ নানা রকম পাখি আর বন্যপ্রাণী।

স্থানটির দর্শনীয় দিক সমুহ বা আকর্ষণীয় দিকসমুহঃ পাহাড়ের ঢালে ঢালে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। নানা রকম গাছপালা সমৃদ্ধ এ উদ্যানে আছে. এসব গাছপালার ছায়ার নিচ দিয়ে আঁকাবাঁকা পায়েচলা পথে হাঁটলে মন হারিয়ে যাবে অজানায়।
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের বাসিন্দাদের মধ্যে আছে বন্যহাতি, হরিণ, হনুমান, উল্লুক, শুকর, বনবিড়াল, গুইশাপ, অজগর ইত্যাদি। ভাগ্য ভালো থাকলে বিশ্বের অন্যতম বড় বিষধর সাপ শঙ্খচুরের দেখা পেয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে প্রায়ই এ বনে বন্যহাতির দেখা মিলছে। দলবেঁধে হাতিরা বনের ভেতরে ঘুরে বেড়ায় অবাধে।
পাহাড়ের ঢালে ঢালে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। কাপ্তাই গেলে অবশ্যই দেখবেন হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে মালামাল পার করার ছোট্ট ‘রোপওয়ে´।

যে সময় যাবেন বা বেড়ানোর সময়কালঃ বছরের যেকোন সময়ে ঘুরে আসতে পারেন মনরোম নৈসর্গিক কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান।

যেভাবে যাবেনঃ চট্রগ্রামের বহদ্দারহাট বাস স্টেশন থেকে পনের মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায় কাপ্তাই এর উদ্দেশ্যে। পৌঁছাতে সময় লাগে দেড়-দুই ঘন্টা। ভাড়া আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া এখানে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, কিংবা যেকোন ধরণের যানবাহন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ব্যাবস্থাঃ এখানে থাকার জন্য রয়েছে সাধারণমানের কিছু হোটেল। কাপ্তাই শহরের এসব হোটেলগুলো হল- হোটেল থ্রি স্টার, হোটেল নিরাপদ, বোয়ালখালি বোর্ডিং, কামাল বোর্ডিং ইত্যাদি। এখানে আনুমানিক ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় দুইজন থাকার কক্ষ আছে।এ ছাড়া বন বিভাগের রেস্ট হাউজে থাকতে হলে পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে। কাপ্তাই এলাকায় খাবার জন্য সাধারণ মানের বেশ কিছু রেঁস্তোরা আছে। সবচেয়ে ভালো খাবারের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ঝুম রেঁস্তোরা উৎকৃষ্ট।

কতৃপক্ষের অনুমতি প্রযোয্য হলেঃ এখানে বেড়ানোর ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কর্তিপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
এখানে বেড়ানোর সময় যে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খেয়াল রাখতে হবেঃ জঙ্গলে ভ্রমণের সময় যথাসম্ভব চুপচাপ থাকার চেষ্টা করুন। বেশি আওয়াজে বন্যপ্রাণীরা বিরক্ত হয়।

তখন তাদের দেখা পাওয়া কঠিন হবে। প্লাস্টিক জাতীয় প্যাকেট, বোতল, ক্যান সঙ্গে আনলে সেগুলো বনে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। সঙ্গে করে বাইরে এনে ময়লা ফেলার জায়গায় ফেলুন।

নিউজটি শেয়ার করুন :

আপনার মন্তব্য লিখুন............